শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:১৯

অষ্টম কলাম

অভিবাসীদের অধিকার আদায়ের প্রতীক মাজেদা এ উদ্দিন

প্রতিদিন ডেস্ক


অভিবাসীদের অধিকার আদায়ের প্রতীক মাজেদা এ উদ্দিন

দাম্পত্য কলহ, ভাড়াটে নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে সোচ্চার একজন বাংলাদেশির নাম মাজেদা এ উদ্দিন। টানা ২৭ বছর ধরে এমন পেশাকে বেছে নিয়েছেন মাজেদা। দুর্বৃত্তের গুলি কিংবা ছুরিকাঘাতে হতাহত অথবা অবৈধ অভিবাসীদের সমস্যার কথা জানার পরই হাজির মাজেদা। স্কুল অথবা মসজিদের সামনের রাস্তায়  ‘স্টপ সাইন’ কিংবা ব্যালটে বাংলা সংযোজন অথবা স্কুলে বা হাসপাতালের দিক-নির্দেশনাসহ যাবতীয় তথ্য বাংলায় প্রকাশের দাবি উঠলেই দৃষ্টি কাড়েন এই মাজেদা। এনআরবি নিউজ। ওপি ওয়ানে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আগত অনেকেই ইংরেজিতে কাঁচা ছিলেন। তারা সিটির সুযোগ-সুবিধা, এমনকি পাবলিক স্কুলে গিয়ে সন্তানের খোঁজ-খবর নেওয়ার মতো ইংরেজিও জানতেন না। তখন মাজেদা থাকতেন ব্রঙ্কসে। পার্কচেস্টার এলাকায় পিএস ১০৬ এ পড়ত তার সন্তানরা। সে সুবাদে স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গে পরিচয় ছিল তার। বাংলা অনুবাদকের দরকার হলেই ডাকতেন তাকে। একই সঙ্গে বয়স্কদের নানা কাজেও সহায়তা করেন তিনি। সবই ছিল স্বেচ্ছাশ্রমে। এক পর্যায়ে ১৯৯৩ সালে ওই স্কুলের প্যারেন্ট কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পান। এরপর তাকে ব্রুকলীন ইলেকশন বোর্ডে নেওয়া হয় প্রবাসীদের সহায়তার জন্য। এসব কাজের মধ্য দিয়েই ৫০ বছর বয়েসী মাজেদা নিজেকে মূলধারায় জোরালোভাবে আবিষ্কার করেন। ৫ সন্তানের জননী মাজেদার উদ্যোগ এবং আরও অনেকের সহায়তায় কুইন্সের ব্যালটে বাংলা যুক্ত হয় ২০১২ সালে। গত বছর ড্রাইভার লাইসেন্সের পরীক্ষাপত্রে বাংলা যুক্ত হয়েছে। এ বছর বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার হাসপাতালসমূহেও বাংলা দেখা যাচ্ছে। ২০১৫ সালে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সামনের রাস্তা ওয়ান ওয়েতে পরিণত হয়েছে। উডসাইড মসজিদের সামনের রাস্তায় ‘স্টপ সাইন’ এবং ‘বাম্পস’ লেখা দেখা যাচ্ছে। একইভাবে ব্রঙ্কসের বিভিন্ন স্কুলের আশপাশের রাস্তায়ও এমন সাইন পড়েছে মাজেদার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে। জ্যামাইকায় বসবাসরত মাজেদা অভিবাসীবিরোধী বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও সোচ্চার রয়েছেন। ৭ মুসলিম দেশের নাগরিকদের নিষিদ্ধের বিশেষ নির্দেশ জারির প্রতিবাদে জেএফকে এয়ারপোর্টে লাগাতার বিক্ষোভসহ ম্যানহাটানে ইউনিয়ন স্কোয়ার, ওয়াশিংটন পার্ক, সেন্ট্রাল পার্কে ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে সব কর্মসূচিতে দেখা যায় মাজেদাকে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলেও অবৈধ অভিবাসীদের পক্ষে সব আন্দোলনে অংশ নেন। এক পর্যায়ে মাজেদাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ম্যানহাটানে। মাজেদা এ উদ্দিন এখন সোচ্চার পাবলিক স্কুলে হালাল খাদ্যের দাবিতে। পাশাপাশি জ্যামাইকায় গত বছর খুন হওয়া নাজমা খানমের নামে রাস্তার নামকরণের দাবিও পেশ করেছেন সিটি কাউন্সিলে। মাজেদা নিউইয়র্কের একটি লেবার ইউনিয়নের (ডিসি-৩৭) কোষাধ্যক্ষ এবং আরেকটি ইউনিয়ন (১৪০৭) এর প্রেসিডেন্ট কারী মাফ মিসবাহ উদ্দিনের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথ এবং প্রশাসনে সোচ্চার রয়েছেন ‘সাউথ এশিয়ান ফান্ড ফর এডুকেশন, স্কলারশিপ অ্যান্ড ট্রেনিং’ (সেফেস্ট) নামক একটি সংস্থার নেতৃত্বে। মাজেদা হচ্ছেন এটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট।


আপনার মন্তব্য