Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:২৪

ত্রাণের খাবার বিক্রি করছেন রোহিঙ্গারা

রেজা মুজাম্মেল, কক্সবাজার থেকে

ত্রাণের খাবার বিক্রি করছেন রোহিঙ্গারা

শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি তদারককারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে।

কয়েকটি ক্যাম্পে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই বিভিন্ন সংস্থা ধারাবাহিকভাবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। এর মধ্যে আছে চাল, মসুর ডাল, চিনি, তেল, পিয়াজ, দুধ, পাউডারসহ নানা খাদ্যপণ্য। কিন্তু রোহিঙ্গারা এসব পণ্য স্থানীয়সহ বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। এসব পণ্য বাজার মূল্যের চেয়ে ২-৩ গুণ কম মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-২-এ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক রোহিঙ্গাই ত্রাণের খাবার বিক্রি করছেন। তারা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা মূল্যের মসুর ডাল বিক্রি করছেন ৩০ টাকায়, ১০৫ টাকা মূল্যের সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন ৬০-৭০ টাকায়, ভালোমানের বিভিন্ন চাল প্রতি কেজি বিক্রি করছেন ৩০ টাকায়, ২০ টাকা মূল্যের আলু ৫ টাকায়, ৫৫ টাকার চিনি ৩০ টাকায়, ৮০-৯০ টাকা মূল্যের পিয়াজ ৩০ টাকায়, ২-৩ হাজার টাকা মূল্যের তাঁবু বিক্রি করছেন মাত্র ৫০০-৬০০ টাকায়। ২০০ থেকে ৩০০ টাকা মূল্যের কম্বল বিক্রি করছে ৬০ থেকে ১২০ টাকায়। এ ব্যাপারে বালুখালী ক্যাম্প-২-এর রোহিঙ্গা বয়োবৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের কেবল চাল-ডাল দেওয়া হয়। কিন্তু এর বাইরে অন্যান্য অতিপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাবার আমরা পাই না। এসব খাবার আমাদের দোকান বা অন্যত্র থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু টাকা দিয়ে খাদ্যপণ্য কেনার মতো আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বাধ্য হয়ে নানা খাদ্যপণ্য বিক্রি করে দিই।’ উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের আবদুল গাফফার বলেন, ‘কিছু খাদ্যপণ্য আমরা প্রয়োজনেরও বেশি পাই। তাই এসব বিক্রি করে না থাকা খাদ্যপণ্য কিনি।’জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া ত্রাণ ক্ষেত্রবিশেষ হয়তো উদ্বৃত্ত হয়ে যায়। প্রশাসনের অগোচরে তারা হয়তো এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিন্তু এত বেশি মানুষের মধ্যে বিষয়টির কঠোর নজরদারি করা সম্ভব নয়।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন সংস্থা যেসব খাদ্যপণ্য দেয়য়, সেসব খাবার বড়দের জন্য উপযোগী। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা শিশু ও বৃদ্ধরা অনেক ক্ষেত্রে এসব খাবার আহার করতে পারছে না।

ফলে পরিবারের কর্তাকে পড়তে হয় বিপাকে। বালুখালী ক্যাম্প-২-এর শরণার্থী কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমার ঘরে বর্তমানে তিনটি শিশু আছে। ত্রাণ হিসেবে যেসব খাবার দেওয়া হচ্ছে তা আমরা বড় চার সদস্য খেতে পারলেও ছোট তিনজন শিশু খেতে পারছে না। ফলে তাদের খাবার নিয়ে প্রতিদিনই আমাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তা ছাড়া বাইরে কোথাও গিয়ে কোনো কাজ করব তারও কোনো সুযোগ নেই। এরই মধ্যে কয়েকবার চেষ্টাও করেছি। কিন্তু ক্যাম্পের প্রবেশমুখ থেকে ফেরত আসতে হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্যাতনের মুখে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসছেন রোহিঙ্গারা। তারা বর্তমানে উখিয়ার কুতুপালং ১ ও ২ নম্বর ক্যাম্প, বালুখালী ১ ও ২ নম্বর ক্যাম্পসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থানে ২১টি জোনে ভাগ হয়ে বসবাস করছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর