শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মে, ২০১৮ ২৩:১০

কেমন বাজেট চাই

পরিবেশবান্ধব বাজেট চাই

—হাবিব উল্লাহ ডন

রুহুল আমিন রাসেল

পরিবেশবান্ধব বাজেট চাই

আসছে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যুৎ চালিত মোটরগাড়ি আমদানিতে বিদ্যমান ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ককর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়ে পরিবেশবান্ধব বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টারস অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা) সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন। তিনি দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার সংকট উত্তরণে ১০ বছরের পুরনো জাপানি বাস আমদানিতে শুল্ককর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষে তৈরি এসব বাস রাজস্বনীতিসহায়ক না হওয়ায় আমদানি করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। গতকাল রাজধানীর গুলশানে নিজ প্রতিষ্ঠান অটো মিউজিয়াম কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারভিডা সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন বলেন, ইলেকট্রিক ব্যাটারিচালিত মোটরগাড়ি আগামী প্রজন্মের জন্য শতভাগ পরিবেশবান্ধব। সবুজ বাংলাদেশ গড়তে এ গাড়ি অবদান রাখবে। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো গণপরিবহনসহ অন্যান্য যানবাহনের আমদানি ও বিপণনব্যবস্থা সেভাবে গড়ে ওঠেনি। যদিও মহাসড়ক পাড়ি দিতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষসম্পন্ন যানবাহনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) এই পরিচালক মনে করেন, রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির আমদানি ও বিপণন অধিকতর সহজলভ্য হলে সিএনজিনির্ভর যানবাহন অনেকটাই হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির ওপর নির্ভরশীল হবে। এটাই এখন সময়ের দাবি। তার মতে, উদারমুখী শুল্কনীতিমালা গ্রহণ করা হলে আগামী অর্থবছরে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় হবে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। তিনি বলেন, সরকার আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণে জ্বালানিসাশ্রয়ী ও পরিবেশসম্মত হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ি আমদানি উৎসাহিত করেছে। এখন প্রয়োজন হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ি আমদানিতে সিসি স্লাবের পরিবর্তন। এটা করা হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। যেমন টয়োটা হেরিয়ার ছোট আকারের এসইউভি যখন ফসিল ফুয়েল ইঞ্জিনযুক্ত হয়, তখন তা হয় ২০০০ সিসি। আবার একই আকারের হেরিয়ার গাড়ি যখন হাইব্রিড প্রযুক্তির হয়, তখন হয় ২৫০০ সিসি। হাইব্রিড প্রযুক্তির উৎকর্ষ এ পার্থক্যের অন্যতম কারণ। বারভিডা সভাপতি বলেন, ‘একই গাড়ির জন্য কেবল সিসি পার্থক্য হওয়ার কারণে বিদ্যমান শুল্কহার ভিন্নতর। যদিও ২৫০০ সিসির জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি ২০০০ সিসির ফসিল ফুয়েলের চেয়ে বহুগুণ কম জ্বালানি পোড়ায়, এর পরও ভোক্তা ও পরিবেশপ্রিয় হেরিয়ার গাড়ি বাড়তি শুল্ককরের কারণে আমদানি হচ্ছে না। একই অবস্থা হাইব্রিড প্রযুক্তির গাড়ির ক্ষেত্রেও। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেটে আধুনিক, রাজস্ববান্ধব ও সবার কাছে বোধগম্য নতুন একটি এসআরও প্রণয়নের দাবি করছি। এর কারণ হলো, ৮৭ দশমিক ০২ থেকে ৮৭ দশমিক ০৪-এর আওতায় যেসব এসআরও বিদ্যমান রয়েছে, তা অসংগতিপূর্ণ এবং সাংঘর্ষিক। এই এসআরও জটিলতার অবসান চাই। এই জটিলতা থাকলে দেশে ভালো মানের গাড়ি আমদানি হবে না।’


আপনার মন্তব্য