শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ জুন, ২০১৮ ০০:০৫

গ্রামাঞ্চল আলোকিত সৌরবিদ্যুতে

কাজী শাহেদ, রাজশাহী

গ্রামাঞ্চল আলোকিত সৌরবিদ্যুতে

গ্রামের মেঠো পথ, সেখানে বিদ্যুৎ পাওয়াটা ছিল কষ্টের। কিন্তু এখন দিন বদলে গেছে। সোলারের আলোয় আলোকিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চল। রাজশাহীর বেশিরভাগ এলাকায় এখন পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। গ্রামের মোড় কিংবা ছোট বাজার ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এরই মধ্যে পৌঁছে গেছে সৌরবিদ্যুতের আলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ত্রাণ পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় সৌর বিদ্যুতে জ্বলছে এখন রাজশাহী অঞ্চলের গ্রামীণ সড়ক বাতি। ২০১৬ সাল থেকে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোলার স্থাপন ও মেঠোপথে স্ট্রিট লাইট বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। চলতি অর্থ বছর পর্যন্ত তিন বছরে রাজশাহী জেলার ৭২টি ইউনিয়নের মেঠোপথে ৬ হাজার ২১০টি স্ট্রিট লাইট বসানো হয়েছে। এছাড়াও ১৪টি পৌরসভায় ৭২টি ইউনিয়ন এলাকায় স্ট্রিট লাইটের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সোলার হোম সিস্টেম সার্ভিস আছে ১ হাজার ৬১৬টি। জেলায় ৭ হাজার ৮১৬টি স্ট্রিট লাইট ও সোলার হোম সার্ভিস সিস্টেমের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা আছে। তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মেঠোপথে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের কাজ চলছে। সেখানে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন জানান, তার এলাকার মধ্যে যেখানেই মানুষের চলাচল রয়েছে সেসব স্থানেই সৌর প্যানেলের মাধ্যমে আলো পৌঁছানো হচ্ছে। ফলে এখন রাতের আঁধারে সৌরবিদ্যুতের আলোয় নিরাপদে মানুষ চলাচল করছেন। রাস্তাগুলো আলোকিত হওয়ায় রাতে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমে এসেছে। এখন রাত নামলেই আলোয় আলোকিত হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাগুলো। গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত সগুনা গ্রামের কলেজের প্রভাষক লুত্ফর রহমান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ থাকলেও রাস্তা বা গোরস্থানে কোনো আলোর ব্যবস্থা ছিল না। গত বছর থেকে স্থানীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে গ্রামের রাস্তায় স্ট্রিট লাইট দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামের চিত্রটা পাল্টে গেছে। এখন রাতে গ্রাম আলোময় হয়ে থাকছে। মানুষ রাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন।’

রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারা দেশে গ্রাম-গঞ্জে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তার অংশ হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে প্রকল্পটির যাত্রা রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে। এ সৌরবিদ্যুতের কারণে একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে, অন্য দিকে গ্রামে মানুষ অন্ধকার থেকে আলোকিত রাস্তায় রাতে চলাচল করতে পারছেন। জানা গেছে, শুধু গ্রামেই নয় শহরেও এখন বসছে সোলার সিস্টেম। রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাসা বাড়িতে সোলার বিদ্যুতের আলো পৌঁছে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি বলেন, রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধারা এখন সৌরবিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি আগামীতে নগরীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ক্লাস পর্যায়ে এ সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, প্রতিটি ক্লাস পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ দিতে পারি কি না- সেটাও চিন্তা-ভাবনা চলছে।


আপনার মন্তব্য