Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৭

কারা সংস্কারে দৃষ্টান্ত

সিলেট কারাগার থেকে ১৪২ জন মুক্ত

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেট কারাগার থেকে ১৪২ জন মুক্ত

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলার ১৪২ জন কয়েদি মুক্তি পেয়েছেন। তারা লঘু অপরাধে কারাভোগ করছিলেন। গতকাল বিকালে তাদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। বাংলাদেশে একই দিনে কোনো কারাগার থেকে এত বিপুলসংখ্যক কয়েদি মুক্তি পাওয়ার ঘটনা এই  প্রথম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগের বাস্তবায়ন হিসেবে এসব কয়েদি মুক্তি পাওয়ার আগে সিলেট কারাগার পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র সচিব (সুরক্ষা ও সেবা) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক। এ সময় তারা কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মানবিক বিশেষ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিলেট কারা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন। জানা যায়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি বিশেষ মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তার উদ্যোগ অনুসারে, যারা ছোটখাটো তথা লঘু অপরাধ করে কারাগারে আছেন, তারা যদি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান ও ভালো পথে চলার অঙ্গীকার করেন, তবে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগের প্রথম বাস্তবায়ন ঘটল সিলেটে। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, লঘু অপরাধে অভিযুক্ত বিভিন্ন মামলার ১৪২ জন আসামিকে গতকাল সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত, সিলেট জেলা দায়রা জজ আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে হাজির করা হয়। এসব আসামি মেট্রো আইনে, চুরি, ছিনতাই, পতিতাবৃত্তি প্রভৃতি অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন। আদালতে তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলার অঙ্গীকার করেন। আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে সব আসামির জামিন মঞ্জুর করে। কিছু আসামির সাজার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার আবদুল জলিল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই ১৪২ আসামি আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করলে আদালত তাদের জামিন দেয়। অনেকে মামলা থেকেও অব্যাহতি পেয়েছেন। দেশে এই প্রথম কোনো কারাগারের এতজন আসামি একসঙ্গে জামিন পেলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ আছে মানবিক দিক বিবেচনা করে লঘু অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের জামিন প্রদানের বিষয়ে। তার মতে, লঘু অপরাধে কারাগারে থাকা হাজতিদের ব্যক্তিজীবনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়, তাদের পরিবার ভোগান্তি পোহায়। এ জন্য তিনি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব ব্যক্তির জামিনের পক্ষে। তার সে উদ্যোগেরই বাস্তবায়ন ঘটল সিলেটে। আগামীতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।


আপনার মন্তব্য