Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২১

দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতুর ১০৫০ মিটার

মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর প্রতিনিধি

দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতুর ১০৫০ মিটার

পিলারে বসানোর উদ্দেশ্যে ‘তিয়ান ই’ ক্রেনে করে মাওয়া প্রান্ত থেকে জাজিরায় রওনা হয়েছে পদ্মা সেতুর সপ্তম স্প্যান। আজ জাজিরা প্রান্তে ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানোর কথা রয়েছে। গতকাল সকালে স্প্যানটি ৩৬-৩৭ নম্বর পিলারে বসানোর কাজ সম্পন্ন করেছে সেতু বিভাগ। ১৫০ মিটার লম্বা ও ১৩ মিটার প্রস্থ বিশাল স্প্যানটি ক্রেন দিয়ে ওঠানো হবে। স্প্যানটি বসানোর পর জাজিরা প্রান্তে  সেতুর ৯০০ মিটার দৃশ্যমান হবে। এ ছাড়া মাওয়া পয়েন্টে একটি স্প্যান বসানো হয়েছে। এর ফলে সেতুর মোট দৃশ্যমান হবে ১০৫০ মিটার। ৪২টি স্প্যান জোড়া দিয়েই পদ্মা সেতু তৈরি হবে। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। এরপর গত বছর ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর খুঁটিতে বসানো হয় দ্বিতীয় স্প্যান। ওই বছরের ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর খুঁটির ওপর বসে তৃতীয় স্প্যান। ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর খুঁটির ওপর চতুর্থ স্প্যান বসানো হলে সেতুর ৬০০ মিটার দৃশ্যমান হয়। পঞ্চম স্প্যান বসানোর পর ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান হয়। ষষ্ঠ স্প্যান বসানো হলে জাজিরা প্রান্তে ৯০০ মিটার এবং মাওয়া প্রান্তে ১৫০ মিটারসহ মোট ১০৫০ মিটার দৃশ্যমান হবে। সেতু বিভাগের প্রকৌশলীরা জানান, সপ্তম স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে  ৩৬-৩৭ নম্বর পিলারে বসানো হবে।

এর ফলে ৩৬ নম্বর পিলারের কাজ শেষ করে স্প্যান বসানো সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে স্প্যানটি নিয়ে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ক্রেনটি যাত্রা শুরু করে। স্প্যানটি পিলারে তোলার পুরো কাজটি করা হয়েছে ভাসমান ওই ক্রেন আর প্রযুক্তির সাহায্যে। স্প্যানটি ১৫০ মিটার লম্বা ও ১৩ মিটার প্রস্থ। এর ওজন ৩ হাজার ২০০ টন। একটি শক্তিশালী ক্রেনের সাহায্যে স্প্যানটি আনা হয়েছে। ভাসমান সেই ক্রেনের ওজন ৩ হাজার ৭০০ টন। ক্রেনটি দিয়েই পিলারের ওপর স্প্যানটি আজ সকালে বসানোর কথা রয়েছে। স্প্যানটি জাজিরা প্রান্তে পিলারের কাছে পৌঁছতে এক দিন সময় লাগে। কিন্তু নদীতে পদ্মা সেতুর কাজে ভারী যন্ত্রাংশ ব্যবহার, বড় বড় ক্রেনের কাজ এবং কুয়াশার কারণে ভাসমান ক্রেনটিকে ধীর গতিতে চলতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জাজিরা প্রান্তে পৌঁছাতে এক দিনের বেশিও সময় লেগে যেতে পারে। আর তেমনটি হলে আজ নাও বসতে পারে সপ্তম স্প্যান। এদিকে পদ্মা সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু করেছে। টোল প্লাজার নির্মাণকাজ শেষ করেছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে দিন-রাত চলছে কাজ ও বিশাল কর্মযজ্ঞ। সপ্তম স্প্যান বসানোর খবরে দারুণ খুশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। ৪২টি পিলারের ওপর এমন ৪১টি স্প্যানের সাহায্যে পদ্মার বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এর কাজের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া মূল প্রকল্প কাজের ৭০ শতাংশ শেষ করেছে সেতু বিভাগ। সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকা- বেড়ে যাবে কয়েক গুণ। বাপ-দাদার ভিটেবাড়ি গেলেও পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তুষ্ট স্থানীয়রা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর