শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩৬

কেমিক্যাল পল্লীর কাজ শেষ হচ্ছে না, হটানো যাচ্ছে না বিপদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বাইরে কেমিক্যাল পল্লীতে সব রাসায়নিক গুদাম, দোকান ও কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এর অবকাঠামো নির্মাণের কাজও শুরু করা যায়নি। এদিকে পুরান ঢাকায় দিন দিনই আরও বেশি ঝুঁকি নিয়ে চলছে রাসায়নিক উৎপাদন, মজুদসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম। ২০১১ সালে উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও রাসায়নিক পল্লীর কাজ এখনো ঝুলে আছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা (ডিপিপি) তৈরি করে বিসিক। কেরানীগঞ্জের সোনাকান্দা মৌজায় ২০ একর জমিতে এ পল্লী স্থাপনের বিষয় যাচাই-বাছাইও করা হয়। প্রথমে ডিপিপিতে ১ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সেখানে সাত তলাবিশিষ্ট ১৭টি ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেসব ভবনে কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি ও দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বলা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এর ব্যয় বহন করবেন। এজন্য ২০১৬ সালের মাঝামাঝি তাদের সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা স্মারক সই করার কথা ছিল; কিন্তু ব্যয়ের পরিমাণ অতিরিক্ত হওয়ার অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। তারা কেমিক্যাল পল্লীতে কোনো ভবন নয়, প্লটের জন্য দাবি জানান। এ অবস্থায় প্রথম ডিপিপি বাতিল করে এবার ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী ‘প্লটসমৃদ্ধ রাসায়নিক পল্লী’ প্রতিষ্ঠার জন্য কেরানীগঞ্জের ব্রাহ্মণগাঁও মৌজায় সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে, সেখানে ঢাকা-দোহার সড়কের পাশে এই পল্লী নির্মাণ করা হবে বলে বিসিক সূত্রে জানা গেছে। এর ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত হলে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমতি নিয়েই জমি অধিগ্রহণের কাজে হাত দেওয়া হবে। এতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ আগের চেয়ে ১৮ ভাগের ১ ভাগ ব্যয় হবে। সেখানে ৩০০ প্লট নির্মাণ করে দ্রুত কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রথম ডিপিপিতে ৪ হাজার শিল্প ইউনিটের প্রস্তাব থাকলেও এখন কেরানীগঞ্জে ৩০০ প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। পুরান ঢাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১২ শতাধিক। এর বিপরীতে ৩০০ প্লট তৈরি করে ‘বিপদটা ঝুলিয়েই রাখা হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন তারা।


আপনার মন্তব্য