শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৩০

কৃষি সংবাদ

দেশি মুরগির খামার

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

দেশি মুরগির খামার

জাকারিয়া হোসেন। শিক্ষিত যুবক। শিক্ষাজীবন শেষে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও চাকরি জোটাতে পারেননি। একপর্যায়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তবে এসব এখন অনেক পুরনো কথা। কারণ বর্তমানে জাকারিয়া একজন সফল খামারি। তিনি স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেটেরিনারি সার্জনের পরামর্শে অভাব ও বেকারত্ব  ঘোচাতে জীবনযুদ্ধে বেছে নিয়েছেন দেশি মুরগি পালনকে। এ জন্য যুক্ত হন ‘স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি’ নামের একটি খামার সংঘে। শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ধড়মোকাম গ্রামের বাড়িতে গড়ে তোলেন ক্ষুদ্র পরিসরে বাণিজ্যিক দেশি মুরগির খামার। অল্পদিনের মধ্যে সফলতাও আসতে শুরু করে। নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারেও আসে আর্থিক সচ্ছলতা। মাত্র পঞ্চাশটি মুরগি নিয়ে শুরু করা খামারটিতে বর্তমানে আট শতাধিক মুরগি রয়েছে। চার বছরের ব্যবধানে ব্যবসার পরিধি বাড়ায় শূন্য থেকে লাখপতি বনে গেছেন হতাশ যুবক জাকারিয়া। কেবল জাকারিয়াই নয়, তার মতো এ উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি মুরগির (অরগানিক) খামার গড়ে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এসব খামারের সঙ্গে  যুক্ত থেকে আরও পাঁচ হাজারেরও অধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। সরেজমিন একাধিক খামার পরিদর্শনকালে কথা হয় সুবর্ণা খাতুন নামের এক নারী খামারির সঙ্গে। তিনি বলেন, স্যারের পরামর্শে দেশি মুরগির খামার করে দিনের নাগাল পেয়েছি। পাশাপাশি হতাশাগ্রস্ত বেকার জীবন থেকে কর্ম পেয়েছি। আব্দুস সালাম নামের আরেক খামারি বলেন, শিক্ষা জীবন শেষে চাকরি নামক সোনার হরিণ পাইনি। এতে হতাশ হয়ে পড়ি। বোঝা হয়ে যাই পরিবারের। কিন্তু একদিন হঠাৎ স্যারের সঙ্গে দেখা হয়। পরে তার পরামর্শে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসি। বসতবাড়িতে একটি দেশি মুরগির খামার গড়ে তুলি। অল্পদিনের মধ্যে খামারটি লাভজনক হয়ে ওঠে। অন্যদিকে এই জাতের মুরগির সংরক্ষণ ও বিস্তার ঘটলে দেশে নিরাপদ ও আমিষের চাহিদা পূরণ, আত্মসামাজিক উন্নয়নসহ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেশি মুরগির খামারের কার্যক্রম শুরু হয়। খামারের উদ্যোক্তা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রায়হান। তাঁর সার্বিক সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গড়ে উঠে প্রায় তিনশতাধিক খামার। তাদের নিয়ে তিনি গঠন করেন ‘স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি’ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে চাকরি না পাওয়া শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মুরগির খামার গড়তে উদ্বুদ্ধ করছেন। উপজেলায় মোট খামারি রয়েছেন ৩৫০জন। এরা সবাই শিক্ষিত নারী-পুরুষ। ক্ষুদ্র ও বড় পরিসরে দেশি মুরগির খামার করে সবাই স্বাবলম্বী হয়েছেন। শেরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মো. রায়হান এই সেক্টরটিকে স্বল্প বিনিয়োগে চাকরির বিকল্প কর্মসংস্থানের নতুন খাত হিসেবে অভিহিত করেন। পাশাপাশি ‘স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি’ সংঘের সামাজিক ইতিবাচক কার্র্যক্রমের মাধ্যমে যুব সমাজকে মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, বাল্যবিবাহ ও যৌন হয়রানির মতো সমাজবিরোধী কর্মকা- থেকে তাদের বিরত রেখে কর্মমুখী করতে কাজ করছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী শেখ বলেন, সার্জন রায়হানের বাণিজ্যিকভিত্তিক দেশি মুরগির খামার মডেল হিসেবে যেন সারা দেশে বিস্তৃতি লাভ করতে পারে এজন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানান তিনি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ওই কর্মকর্তার নিজস্ব চিন্তা চেতনা ও সহযোগিতায় গড়ে ওঠা দেশি মুরগির খামার ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। তার এসব খামার মডেল হিসেবে সারা দেশে চালু করার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে সুপারিশ পাঠানো হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর