শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪৩

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা

লোকবলের অভাব অবহেলা, ভোগান্তি রোগীদের

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল

কাবুল উদ্দিন খান, মানিকগঞ্জ

লোকবলের অভাব অবহেলা, ভোগান্তি রোগীদের

জনবল সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল। নার্স ব্যতীত বাড়েনি এর জনবল। ফলে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ২৫০ বেডের এ হাসপাতাল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সিটিস্ক্যান, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকার পড়েও তা কোনো কাজে আসছে না। বাধ্য হয়ে অন্যসব ক্লিনিকে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। হাসপাতালে কর্মরত অনেকেই বলেন, দায়িত্বশীলদের অনেকেরই ক্লিনিকের ব্যবসা রয়েছে। হাসপাতালে এক্স-রে, ইসিজি, ইকো সচল থাকার পরেও তারা ‘এসব নষ্ট রয়েছে’ বলে দালাল দিয়ে রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দুটি এম্বুলেন্স রয়েছে হাসপাতালে, কিন্তু ড্রাইভার একজন। ফলে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

জানা গেছে, এলাকার জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের জন্য  মানিকগঞ্জ শহরে  নির্মাণ করা হয় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি। স্বাস্থ্য সেবার চাহিদা বাড়তে থাকায় ১৯৯৪ সালের ৪ জানুয়ারি এ হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়, কিন্তু বৃদ্ধি করা হয়নি জনবল। ফলে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও  শুধু নার্স নিয়োগ দেওয়া ছাড়া বাড়ানো হয়নি অন্যান্য জনবল। ১০০ শয্যার হাসপাতালেরই জনবল সংকট রয়েছে। সিনিয়র কনসালটেন্ট সাতজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ২জন, মেডিকেল অফিসার একজনসহ বিভিন্ন দফতর মিলে  ২২জন লোক কম  রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে পর্যাপ্ত নার্স থাকলেও বেশিরভাগ নার্সের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ রোগী ও তাদের স্বজনরা। সরকার পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ করছে, কিন্তু ইনডোর ও আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হলেও তাদেরকে দামি ওষুধ বাইরে থেকেই কিনতে হচ্ছে।

 এ ছাড়াও দালালদের দৌরাত্ম্যে প্রতারিত হচ্ছেন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অনেক রোগী। হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠা বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়োগকৃত দালালরা এ দুর্ভোগকে পুঁজি করে প্রতারিত করছে রোগীদের।

ভালো ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নাম করে দালাল চক্র ওইসব ক্লিনিকে ভর্তি করাচ্ছে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের।

অভিযোগের ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. লুৎফর রহমান জানান, ১০০ শয্যার হাসপাতালের লোকবল দিয়ে ২৫০ শয্যা চালানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় লোকবল  নিয়োগ দিলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর