Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৯ ২৩:১৭

কৃষি সংবাদ

মরিচ চাষিদের মুখে হাসি

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া

মরিচ চাষিদের মুখে হাসি

বগুড়ায় মরিচ চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। জেলায় এবার মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে; দামও ভালো পাচ্ছেন কৃষক। কৃষি বিভাগ বলছে, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় চাষিরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। এবার প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন মরিচ উৎপাদিত হবে; যা থেকে সহস্র কোটি টাকা আসবে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, বগুড়া জেলায় চলতি মৌসুমে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর সারিয়াকান্দিতে মরিচ চাষের জমি বেড়েছে। এ কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। বেশির ভাগ জমি থেকে চাষিরা কাঁচা মরিচ বিক্রি করছে। মরিচ চাষ করে কৃষক লাভবান হয় বলে মরিচ চাষে তারা আগ্রহী। সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি, কাজলা, কর্ণীবাড়ি, বোহাইল ইউনিয়ন সম্পূর্ণ এবং হাটশেরপুর, চন্দনবাইশা এবং সদর ইউনিয়ন আংশিক যমুনার চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত। এসব এলাকায় ভালো মরিচ চাষ হয়ে থাকে। সারিয়াকান্দির মরিচ চাষিরা তাদের উঠানে, নদীর তীরে, বাড়ির পাশে উঠান তৈরি করে মরিচ শুকিয়ে নিচ্ছেন। জেলায় এবার ৬ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ৭ হাজার ৬০০ হেক্টরে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। ফলন হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন। সারিয়াকান্দির মরিচ চাষি আবদুস সালাম জানান, আমন ধান ৬০০-৭০০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে, আলু ৪০০ টাকা মণ। এই দামে আলু ও ধান বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয়েছে। এখনো আলুর দাম বাড়েনি। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মরিচ চাষ করে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি। কাঁচা মরিচ বিক্রি করে লাভ পাওয়া গেছে। শুকনো মরিচ ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা মণ বিক্রি হবে। সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন সরদার জানান, সোনাতলায় ১ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। কৃষকরা তিনটি হাইব্রিড জাতের মধ্যে সনিক, ১৭০১ ও বিজলী প্লাস এবং স্থানীয় উন্নত জাতের মরিচের ব্যাপক চাষ করেছেন। যমুনা, বাঙালি নদীর বন্যার পর চরাঞ্চল এবং অন্য জমিতে পলি জমায় প্রতি বছর মরিচের বাম্পার ফলন হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ মণ মরিচ উৎপন্ন হয়। এবার শুকনো মরিচ পাওয়া যাবে ২ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জেলায় এবার ৭ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। কিন্তু এ ফলন বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন।


আপনার মন্তব্য