Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৯ ২৩:২৪

ফের নির্বাচন চাইলেন নুর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ফের নির্বাচন চাইলেন নুর

শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের সব পদেই পুনর্নির্বাচন চান ডাকসুর নব নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’-এর বর্তমান অবস্থান পরিষ্কার করতে বক্তব্য দেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান, ফারুক হোসেনসহ অন্য নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মো. আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, শুরু থেকেই আমার বক্তব্য পরিষ্কার করে আসছিলাম। বঙ্গবন্ধুর কথার মতো, একজনও যদি নায্য কথা বলে, তবে তার কথাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। আমরাও দেখেছি, ডাকসু নির্বাচনে অনেক কারচুপি হয়েছে। এ জায়গা থেকে অন্যান্য প্যানেলের সঙ্গে আমরাও একমত হয়েছি যে, আটাশ বছর পর যে নির্বাচন হয়েছে তা সুষ্ঠু হয়নি। আমি একজন ভিপি পদপ্রার্থী হয়েও রোকেয়া হলে শিক্ষকদের দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছি। কুয়েত-মৈত্রী হলের সবচেয়ে বড় অনিয়মের ঘটনা সবাই স্বচক্ষে দেখেছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে কালিমা লেপে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের কারণে মানুষ যেখানে ভোটবিমুখ হয়ে পড়েছে, সেখানে ডাকসু নির্বাচন একটি দৃষ্টান্ত হতে পারত। আমরা দাবি করে আসছি, নির্বাচন আবার দিতে হবে। আমরা কোনো কলঙ্কিত নির্বাচন চাই না। আমরা সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নুরুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কিছু করার নেই। কেননা এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্মান ও শ্রদ্ধার জায়গা থেকে আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমাদের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যাসহ অন্যান্য সমস্যা নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনে যে অনিয়ম হয়েছে, এ বিষয়েও তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিনি যেন তার জায়গা থেকে প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন। গণভবনে ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিতদের বাইরে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা থাকায় অস্বস্তি বোধ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। এ কারণে অনেক কথা বলতে না পারার অক্ষমতাও প্রকাশ করেন নুরুল হক।

দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পুনর্নির্বাচন চান কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, আমি এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব নিইনি। কোনো কার্যক্রমও চালাইনি। আমি দায়িত্ব নেব কিনা এ বিষয়ে আমার যারা সহযোদ্ধা, আমাদের সঙ্গে যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব। তারা বললে আমি দায়িত্ব নেব, তারা না বললে আমি নেব না। ডাকসুর নব নির্বাচিতদের অভিষেক অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারেও একই কথা বলেন তিনি। এর আগে নির্বাচন বর্জনকারী প্যানেলগুলো একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করলেও গতকাল আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্র ইউনিয়ন। এটা সংগঠনটির সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো ইঙ্গিত কিনা জানতে চাইলে নুর বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তার সঙ্গে যেসব বিষয়ে কথা হয়েছে, তা নিয়ে সংগঠনের অন্যদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলাম। এ কারণে তাদের সংবাদ সম্মেলনের সময় থাকতে পারিনি। বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো কোনো ব্যাপার নয়। আমরা আগেও একসঙ্গে কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব।  এর আগে ভিপি ও সমাজসেবা সম্পাদক পদ বাদ দিয়ে নির্বাচন চাওয়া তার ব্যক্তিগত দাবি ছিল বলেও জানান তিনি। এখন শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সব পদে পুনর্নির্বাচন চান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তার সম্পর্কে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়াতেও সবার প্রতি অনুরোধ করেন তিনি। সংগঠনটির দাবি তুলে ধরে যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সব পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে।


আপনার মন্তব্য