শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০১৯ ২৩:২০

প্রকৃতি

লালবুক গুরগুরি

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

লালবুক গুরগুরি

লালবুক গুরগুরি। ইংরেজি নাম Ruddy-breasted crake. আর বৈজ্ঞানিক নাম porzana fusca. এরা বাংলাদেশে পরিযায়ী পাখি। এরা একটু উষ্ণতার খোঁজে আমাদের দেশে আসে আবার শীত চলে গেলে তারাও চলে যায়। তখন দেশের হাওর অঞ্চলে জলাশয়ে তাদের দেখা মেলে। হাওরের জলজ ঝোপঝাড়, বিলঝিল ও জলাশয়গুলোতে এরা ঘুরে বেড়ায়। প্রধানত ভারত, চীন, জাপান প্রভৃতি দেশে এ পাখিদের দেখা মেলে। ফেব্রুয়ারি মাসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল হাইল হাওরের বাইক্কাবিল থেকে এই পাখিটির ছবি তুলেছেন বন্যপ্রাণী গবেষক সীমান্ত দিপু। পাখিটি লম্বায় ২০-২১ সেন্টিমিটার। ওজন ৮০-১০০ গ্রাম। পোড়া ইটের মতো এদের শরীরের রং।

সঙ্গে মাখানো রয়েছে লালচে-বাদামি রঙের আভা। এদের গলা সাদা। পেটের দুই পাশে ও লেজের তলায় আড়াআড়ি সাদা-কালো সরলরেখা টানা আছে। অতি চঞ্চল প্রকৃতির পাখি। এরা ভোর অথবা সকালে পাঁচ-সাতটি দল বেঁধে ‘কিরিচ কিচ’ শব্দে ডাকে। কুচো চিংড়ি, জল-কাদাশেওলা এবং পচা জলজ পাতার স্কুপে জন্মানো ল্যাদা পোকা ও নলনাটা বনের ভিতরের ডানাওয়ালা এক ধরনের ছোট পোকা এদের প্রধান খাদ্য। মশাও অতি প্রিয় খাবার। প্রজনন সময় বর্ষাকাল। ঝোপঝাড়, ঘাসবন অথবা ধানখেতেও বাসা বাঁধে। ডিম দেয় ছয় থেকে আটটি। পুরুষ-স্ত্রী দুজনে মিলেই ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটে বাচ্চা বের হতে ২০ থেকে ২৪ দিন সময় লাগে। বন্যপ্রাণী গবেষক সীমান্ত দিপু বলেন, লালবুক গুরগুরি পাখি সচরাচর দেখা যায় না। এরা শীতের সময় পরিযায়ী হয়ে আমাদের দেশে আসে। শীত শেষে চলে যায়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর