শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৫

তৃণমূলে স্বাস্থ্যসেবা

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যাসংখ্যা ২৫০। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি এ হাসপাতালে অনুমোদিত জনবল মাত্র ১৫০ শয্যার। ফলে খুঁড়িয়েই চলছে এ হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম। জরুরি বিভাগে জরুরি সেবা না মিললেও সক্রিয় সংঘবদ্ধ দালালচক্র। দালালদের মাধ্যমে ডাক্তাররা থাকেন সার্টিফিকেট বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নানা ধরনের মামলায় ব্যবহারের জন্য সার্টিফিকেট প্রদানে এ হাসপাতালের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। অন্তর্বিভাগে শয্যা থাকলেও সেবা নেই। সংকট চিকিৎসা উপকরণেরও। নগরের প্রাণকেন্দ্র আন্দরকিল্লায় অবস্থিত এ হাসপাতালে শয্যার অনুপাতে কখনই রোগী থাকে না। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখানে প্রথম শ্রেণির (চিকিৎসক) শূন্যপদ আছে চারটি, দ্বিতীয় শ্রেণির (সেবা তত্ত্বাবধায়ক, নার্স, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব কর্মকর্তা) পদ শূন্য আছে আটটি, তৃতীয় শ্রেণির (ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, হেলথ এডুকেটর, প্রধান সহকারী, হিসাবরক্ষক, কম্পিউটার অপারেটর, কার্ডিওগ্রাফার, ক্যাশিয়ার, স্টোরকিপার, সহকারী নার্স, ওয়ার্ড মাস্টার, অফিস সহকারী (কম্পিউটার অপারেটর), টিকিট ক্লার্ক, রেকর্ডকিপার, গাড়িচালক, সাপোর্ট পারসোনাল কম্পাউন্ডার, দর্জি, স্টেরিলাইজার কাম মেকানিক পদ শূন্য আছে চারটি। তবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কর্মরত আছেন মোট ৩৬ জন। অভিযোগ আছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী এলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। অনেক সময় জরুরি বিভাগে রোগীকে না দেখেই ‘এখানে এই রোগের সেবা নেই’ বলে চমেক হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তা ছাড়া জরুরি বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দুর্ব্যবহার নিয়মিত সঙ্গী হয় অসহায় রোগীদের। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। তবু এখানে যারা কর্মরত আছেন তাদের নিয়ে হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কারণ সরকারি হাসপাতালের তো সেবা কার্যক্রম বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সবসময় বলা হয় রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে। তবে কোনো প্রশিক্ষণ বা আইন দিয়ে এ কাজ হয় না। প্রয়োজন প্রত্যেকের নিজ নিজ মানসিকতা পরিবর্তন।’


আপনার মন্তব্য