শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ মে, ২০১৯ ২২:৫৪

পাটকল শ্রমিকরা আবার আন্দোলনে

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

পাটকল শ্রমিকরা আবার আন্দোলনে

বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ৯ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের ৯টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। একই সঙ্গে রাজপথ-রেলপথ অবরোধের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচি অনুযায়ী আজ ও আগামীকাল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খালিশপুর নতুন রাস্তার মোড়ে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করা হবে। ৯ মে শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিক সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে রবিবার দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শিল্পাঞ্চলের স্টার, প্লাটিনাম, ক্রিসেন্ট, দৌলতপুর, জেজেআই, খালিশপুর, আলীম ও কার্পেটিং জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। গতকাল সকাল ৬টায় মিলের কার্যক্রম শুরু হলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, ৯টি পাটকল শ্রমিকদের ৮ থেকে ১১ সপ্তাহের মজুরি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে বকেয়ার পরিমাণ ৬৫ থেকে ৭০ কোটি টাকা। পাট মন্ত্রণালয় ও বিজেএমসির সঙ্গে বৈঠকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের কথা বলা হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত মজুরি দেওয়া হয়নি। মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ক্ষিপ্ত শ্রমিকরা মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক মো. মুরাদ হোসেন বলেন, দাবি আদায়ে আজ ও আগামীকাল বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খালিশপুর নতুন রাস্তার মোড়ে রাজপথ-রেলপথ অবরোধ করা হবে।

 এরপর আগামী ৯ মে ঢাকায় শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। শ্রমিকরা জানান, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে গত ২ এপ্রিল থেকে পাটকলে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেন শ্রমিকরা। এরপর ১৫ এপ্রিল থেকে টানা ৯৬ ঘণ্টার ধর্মঘট কর্মসূচি চলাকালে শ্রম প্রতিমন্ত্রী ও বিজেএমসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে দাবি মেনে নেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়নি।  উল্লেখ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছেন ১৩ হাজার ১৭০ এবং বদলি শ্রমিক ১৭ হাজার ৪১৩ জন।


আপনার মন্তব্য