শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৫ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ জুন, ২০১৯ ২৩:৪৮

স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত বাজেট বাস্তবায়ন চান শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা

আকতারুজ্জামান

স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত বাজেট বাস্তবায়ন চান শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা

শিক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বাজেট বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাজেট বাস্তবায়ন হতে হবে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিতামূলক। শিক্ষা সেক্টরে অগ্রাধিকার খাতগুলো চিহ্নিত করে বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যয় করতে হবে। কারণ, বরাদ্দের বড় একটি অংশই দুর্নীতির কারণে অন্যের হাতে চলে যায়। শুধু বাজেট দিলেই হবে না, এর বাস্তবায়ন হতে হবে সঠিক প্রক্রিয়ায়। বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় হয়েছে কিনা এ ব্যাপারেও অডিটের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত অর্থবছরে এসব খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ আকারে বাড়লেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রমে এ বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি যথাযথভাবে ব্যয় হওয়া উচিত বলে মনে করেন তারা।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট বাজেটের ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। কিন্তু শুধু শিক্ষা খাতে এই বরাদ্দ ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ। প্রত্যাশার জায়গা থেকে এই বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ একেবারেই অপ্রতুল। বাজেটে নতুন কিছু নেই। একেবারেই গতানুগতিক। তিনি বলেন, বাজেটে এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বাজেট বাস্তবায়ন যেন কোনো রাজনৈতিক বলয়ে বন্দী না থাকে। বাজেটে এমপিওভুক্তির অর্থ ব্যয় হতে হবে প্রভাব ও প্রতিপত্তিমুক্ত। তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা বিনির্মাণে সেভাবে বিনিয়োগ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে টাকার অঙ্ক বেড়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষায় একলাফে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি করি না। কিন্তু এই বরাদ্দ ক্রমে বাড়াতে হবে। প্রতি বছর ১ বা ২ শতাংশ বাড়ানো দরকার। আগামী কয়েক বছর পর এই বাজেট হতে হবে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ। তাহলে শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। ড. ছিদ্দিকুর রহমান আরও বলেন, এই বাজেটের অর্থের ব্যবহার হতে হবে যথাযথ। কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম যেন এই অর্থ খরচের ক্ষেত্রে না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এটি না হলে বাজেট বাড়িয়ে কোনো কাজে আসবে না।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষিত শিক্ষক আনার কথা বলা হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষাবিদ বলছেন, বিদেশি শিক্ষক লাগবে কেন? প্রশিক্ষিত, দক্ষ শিক্ষক আমরা কেন তৈরি করতে পারছি না? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মন্্জুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক সেক্টরে মেধার স্বাক্ষর রাখছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিলে এই মেধাবীরাই ভালো করবে। তিনি মনে করেন বাইরে থেকে প্রশিক্ষিত শিক্ষক আনার প্রয়োজন নেই। এ অধ্যাপক বলেন, বিদেশ থেকে শিক্ষক এনে আমরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারি। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষকরা যাবেন কেন?

আলাদা বেতন স্কেলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা দাবি জানিয়ে এলেও প্রস্তাবিত বাজেটে এ ব্যাপারে কোনো কথা বলা হয়নি। অনেকে বলছেন, প্রাথমিক সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। এসব পরীক্ষার কথা সরকারের শিক্ষানীতিতেও নেই। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা হওয়া প্রয়োজন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। মাধ্যমিক হবে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। তাহলে শিক্ষাব্যয়ও অনেক কমে আসবে। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মন্্জুরুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে আরও বলেন, শিক্ষার বিস্তার ঘটছে। সে হিসেবে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে না। শিক্ষা খাতে বাজেট আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হয়তো একশ বছর বা তার বেশি সময় পর ভেঙে পড়বে। কিন্তু সমান পরিমাণ অর্থ যদি শিক্ষা খাতে দেওয়া হতো, তবে শিক্ষা এগিয়ে যেত অনেকদূর। অবকাঠামো আমাদের দরকার আছে। কিন্তু অগ্রাধিকার খাতগুলোকে যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।

এ শিক্ষাবিদ বলেন, শিক্ষা নিয়ে আসলে যথাযথ পরিকল্পনা নেই সরকারের। অপরিকল্পিত অনেক সিদ্ধান্ত চলছে শিক্ষাব্যবস্থায়। শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না। কারণ বরাদ্দ সবসময়ই নয়-ছয় হয়। বাজেট বরাদ্দ কীভাবে ব্যয় করতে হবে এই প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে অনেকের মধ্যে। বাজেটে বরাদ্দই বড় কথা নয়, সঠিক ব্যবস্থাপনাও জরুরি। বাজেটের অর্থ বাস্তবায়নের  ক্ষেত্রে দুর্নীতি নির্মূল করা, যথাযথভাবে খরচ করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির খবর পাওয়া মাত্র জিরো টলারেন্স ঘোষণা করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর