শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ জুন, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জুন, ২০১৯ ২৩:৪৬

জিন তাড়ানোর নামে তরুণীকে নির্যাতন করে হত্যা

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘জিনে আছড় করেছে’ বলে চিকিৎসা দেওয়ার নামে কথিত কবিরাজের শারীরিক নির্যাতনে শাহনাজ আক্তার শিখা (২৫) নামে এক যুবতী নিহত হয়েছেন। গত বুধবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীপাড়ার বিল্লাল মিয়ার বাড়ির ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ভ- কবিরাজ দম্পতির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন নিহত যুবতীর মা সুরাইয়া বেগম। পরে পুলিশ কবিরাজ ফারুক হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিনকে আটক করেছে। নিহত শাহনাজ আক্তার শিখা ঢাকার সাদ্দাম মার্কেট এলাকার শাহ আলমের মেয়ে, তার তিন বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) এইচ এম জসিম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতরের ২-৩ দিন পর হতে শাহনাজ আক্তার শিখা তার মাকে প্রায়ই ‘কোনো কিছু মনে থাকে না’ বলে জানায়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে ১৫ জুন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ওষুধ খাওয়ানোর পরও মানসিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় প্রতিবেশীদের পরামর্শে ১৬ জুন কবিরাজ ফারুক হোসেনকে বাসায় ডেকে আনা হয়। শাহনাজকে দেখে তিনি ‘জিনে আছড় করেছে’ বলে দশ হাজার টাকায় কবিরাজি চিকিৎসার চুক্তি করেন। কিন্তু ওই চিকিৎসায় কোনো ফল না হওয়ায় কবিরাজ ওই যুবতীকে তার বাড়িতে নিয়ে চিকিৎসার কথা বলেন। সে অনুযায়ী ১৮ জুন সন্ধ্যায় যুবতীকে কবিরাজের বাসায় পাঠানো হয়। এরপর কবিরাজ ও তার স্ত্রী মিলে কবিরাজি চিকিৎসার নামে যুবতীর ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালান। যেমন এ সময় শাহনাজকে ঝাড়ু পেটা করা হয়। তারপর হাত ও পায়ের আঙ্গুল মুচরিয়ে ভেঙে ভেলার অবস্থা করা হয়। এসব নির্যাতনে শাহনাজ চিৎকার করলে তার গলায় এবং বুকে পা দিয়ে চেপে ধরে ‘জিনকে’ চলে যেতে বলেন কবিরাজ দম্পতি। এ ধরনের নির্যাতনে যুবতী শাহনাজ বুধবার রাতে মারা যান। পরিবারের লোকজন কবিরাজের বাসায় গিয়ে শাহনাজের মৃতদেহ ফ্লোরে চাদর মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত কবিরাজ ফারুক হোসেন চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানাধীন মান্দার আলী এলাকার আবদুুল মতিনের ছেলে এবং জেসমিন আক্তার তার স্ত্রী। তারা সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি চৌধুরীপাড়ার বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছিলেন।


আপনার মন্তব্য