শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫১

কান্না থামেনি সেই পরিবারে

বিয়েবাড়ি নয় যেন মৃত্যুপুরী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিয়েবাড়ি নয় যেন মৃত্যুপুরী

একমাত্র ছেলেকে বিয়ে দিয়ে নববধূ ঘরে আনবেন। বছর ঘুরে নাতি-নাতনির মুখ দেখবেন। নাতি-নাতনিদের সঙ্গে হেসে-খেলে বাকি জীবন কাটিয়ে দেবেন। এমন আশা নিয়েই সিরাজগঞ্জ শহরের কান্দাপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেন ও স্ত্রী ঝরনা বেগম নিজেদের পছন্দের মেয়ের সঙ্গে ছেলেকে বিয়ে করান। কিন্তু বিয়ের এক ঘণ্টা পরেই নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা তাদের আশা বিষাদে পরিণত হয়। সোমবার সন্ধ্যায় উল্লাপাড়ায় ট্রেনের সঙ্গে মাইক্রোবাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত রাজনের বাবা-মা কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে গড়িয়ে কথাগুলো বলছিলেন। শুধু তার ছেলে আর নববধূই নয় দুর্ঘটনায় তাদের সঙ্গে আরও নয়জন স্বজন মারা যায়। একমাত্র ছেলের বিয়েতে এসে নয় স্বজনের মৃত্যু যেন শোককে বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের। শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তারা। গতকাল দুপুরে সরেজমিন সিরাজগঞ্জ সদরের উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামে আলতাফ হোসেনের ছেলে সদ্য বিবাহিত বর নিহত রাজন শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বিয়ে বাড়ি নয় যেন এক মৃত্যুপুরী। রাজনের বাবা-মাসহ স্বজনদের কান্না দেখে চোখের পানি ঠেকাতে পারছেন না দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত নারী পুরুষ। শুধুু কান্দাপাড়া নয় আশপাশের গ্রামগুলো থেকেও শিশু থেকে বৃৃদ্ধ সব বয়সী মানুুষ আসছে রাজনদের বাড়িতে। বাড়িতে এসে এমন শোকাবহ পরিবেশ দেখে অজান্তেই চোখের অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে অনেকের। রাজনের স্বজন অনীক, এনামুল ও বোন রুপা কাঁদতে কাঁদতে জানান, উল্লাপাড়া পৌর শহরের এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর শেখের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে ভাইয়ের বিয়ের জন্য সোমবার দিনক্ষণ ঠিক হয়। সে মোতাবেক ভাই ও আত্মীয়স্বজন মিলে দুপুরে কনের বাড়িতে যাওয়া হয়। যথারীতি উৎসবমুখর পরিবেশে বর-কনে কবুল পাঠ করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী (স্বামী-স্ত্রী) করে গ্রহণ করে নেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়িতে ফোন দিয়ে বলে দেওয়া হয় নববধূ নিয়ে রওনা দেওয়া হয়েছে। রাজন ও সুমাইয়ার জন্য বাসরঘরও সাজানো হয়েছিল। কিন্তু ভাই-ভাবীর সেই স্বপ্ন আর পূরণ করতে দিল না মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

 ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় শুধু নব-দম্পতি নয় আরও নয়জনের প্রাণ হারায়।

নিহতের লাশ দেখতে আসা চুনিয়াহাটি গ্রামের রাজিয়া খাতুন, কালিয়ার আবদুল শেখ, মাসুমপুর মহল্লার রাজু ও রায়পুরের হাসিনা বেগম বলেন, আমাদের জীবনে নাটক সিনেমাতে এমন করুণ দৃশ্য দেখিনি। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আল্লায় এমন শোক আর কাউকে কোনোদিন না দেন।

এদিকে, উল্লাপাড়া পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম জানান, যে রেলক্রসিংটিতে দুর্ঘটনা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ অরক্ষিত। আমরা ক্রসিংটিতে গেট ও গেটম্যান দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এদিকে, নিহতের স্বজনদের কোনো অভিযোগ না থাকায় গতকাল সকালে জিআরপি পুলিশ লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। গতকাল বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, রামগাঁতি, কালিয়া হরিপুর, সয়াধানগড়া, দিয়ার ধানগড়া ঈদগাহ ও এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের ঘাটিনা ঈদগাহ মাঠ ও রায়গঞ্জের উপজেলার কৃষ্ণদিয়ার গ্রামে পৃথকপৃথকভাবে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।


আপনার মন্তব্য