শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৯ ০০:০৪

বাড়ছে দুর্ভোগ, চাহিদা ত্রাণের

বন্যাকবলিতরা খোলা আকাশের নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাড়ছে দুর্ভোগ, চাহিদা ত্রাণের
সিরাজগঞ্জে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি -বাংলাদেশ প্রতিদিন

বৃষ্টি না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় কুড়িগ্রামসহ দেশের কয়েকটি স্থানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ-ভোগান্তি বাড়ছে। বন্যা উপদ্রুত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তলিয়ে আছে চর, দ্বীপচর ও নিম্নাঞ্চল। বাঁধ, পাকা সড়ক ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ। এখনো লাখ লাখ মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রের পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৯০টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। রেললাইনে পানি ওঠায় সপ্তম দিনের মতো গাইবান্ধার সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। হবিগঞ্জের কুশিয়ারা নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে দীঘলবাক ও আউশকান্দি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইল, বগুড়া, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

গাইবান্ধা : গত চার দিন থেকে গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি অব্যাহতভাবে কমতে থাকলেও এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে ডায়রিয়া, আমাশয়, সর্দিজ্বরসহ আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে। লালমনিরহাট : তিস্তা ও ধরলার পানি নেমে গিয়ে বন্যা পরিস্থির উন্নতি হলেও গতকাল বিকাল থেকে আবারও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে তিস্তা ও ধরলার পাড়ে। আবার বন্যা দেখা দেওয়ায় পরিবারগুলো স্থানীয় গাইডবান ও সড়কে আশ্রায় নিয়ে বসবাস করছে।

সিরাজগঞ্জ : যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কমলেও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। ঘরবাড়ি-বসতভিটা পানির নিচে থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বন্যাকবলিতরা। বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে থাকতে হচ্ছে বন্যাকবলিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের। রাতে শোবার সঙ্গী হচ্ছে গরু-ছাগল ও কুকুর। এমন করুণ দৃশ্য এখন সিরাজগঞ্জের ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষের। বন্যাকবলিত এসব মানুষের অভিযোগ, এত কষ্টে থাকলেও কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছে না। এ ছাড়া শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন বন্যাকবলিতরা। মুন্সীগঞ্জ : গত ৩ দিনে লৌহজং উপজেলার খড়িয়া গ্রামের ৭০টি পরিবারের ভিটেমাটি বিলীন হয়ে গেছে পদ্মায়। খরস্রোতা পদ্মার থাবায় ভাঙনের মাত্রা প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে ভাঙন-আতঙ্ক। নদীতীরবর্তী গ্রামের শত শত মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

জামালপুর : যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তাঘাট থেকে পানি কিছুটা নামলেও এখনো বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যমুনার পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঘরে ফিরতে পারছেন না দুর্গতরা। ইসলামপুরে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে এক শিশুর। শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের নড়িয়া-কাঁঠালবাড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক প্লাবিত। রাস্তা ভেঙে খনা-খন্দ যান চলাচল বন্ধ। জন দুর্ভোগে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। এ রুটে নড়িয়া থেকে জাজিরা, কাঁঠালবাড়ি ও শিবচর এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কয়েকটি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

নীলফামারী : নীলফামারীতে তিস্তার পানি ফের বিপদসীমা বরাবর বইতে শুরু করেছে। গতকাল বিকালে ডিমলা উপজেলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমা বরাবর ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নেত্রকোনা : নেত্রকোনার প্রধান নদীগুলোর পানি কমলেও নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে দুর্ভোগে রয়েছে মানুষ। কৃষকরা গো-খাদ্যের সংকটে পড়েছেন। বিভিন্ন সড়কে বেঁধে রাখছেন গবাদিপশু।


আপনার মন্তব্য