শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:১৯

সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ বিএনপি ‘বেতাল’ অবস্থায়

রাজনীতি

মাসুম হেলাল, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ আওয়ামী লীগ বিএনপি ‘বেতাল’ অবস্থায়

সুনামগঞ্জে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বড় দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতিতে নানা কারণে ‘বেতাল’ অবস্থা চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে মন্ত্রী-এমপি-নেতাদের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় দলীয় কর্মকান্ড চলছে ডিমেতালে। এর বিপরীতে, রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির অবস্থা ‘অভিভাবকহীন ঘর’-এর মতো। জেলা বিএনপিকে কেন্দ্র করে অন্তত ছয় ভাগে বিভক্ত দলটির নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাপার আহ্বায়ক পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ-এর নেতৃত্বে অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ।

আওয়ামী লীগ : গত বছরের ১৫ মার্চ দীর্ঘ ১৯ বছর পর সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সাবেক এমপি আলহাজ মতিউর রহমানকে সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এনামুল কবির ইমনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

মূলত, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দির্ঘদিন চালকের ভূমিকায় ছিলেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়ুব বখত জগলুল ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নূরুল হুদা মুকুট। এই দুই নেতার মধ্যে তুমুল গ্রুপিং ছিল দীর্ঘদিন ধরে। নেতা-কর্মীরাও আবর্তিত হতেন তাদেরকে কেন্দ্র করে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের দুই মাস পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন জগলুল। মুকুট সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী থাকলেও তাঁকে রাখা হয় সিনিয়র সহসভাপতি পদে। রাজনৈতিক এই মেরুকরণে মুকুটের দীর্ঘদিনের অনুসারী কিছু নেতা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে হাত মেলালেও জেলা সদরে নিজের শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হন তিনি। অপরদিকে, মুকুটের প্রভাবকে ‘ওভারটেইক’ করে রাজধানী ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসা সভাপতি মতিউর ও সাধারণ সম্পাদক ইমন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের ঠিক সেই অর্থে সংগঠিত করতে ব্যর্থ হন। ভাইটাল পদে থাকে এই দুই নেতার অনুপস্থিতি ও সমন্বয়হীনতায় দলীয় কর্মকান্ড ঝিমিয়ে পড়ে। সরকারের সংশ্লিষ্টতা নির্ভর কর্মসূচি ছাড়া দলীয় কর্মসূচিগুলো একেবারেই নিরুত্তাপ। অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গেও সমন্বয় নেই সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের। এদিকে, গত প্রায় তিন মাস ধরে হৃদরোগের চিকিৎসা করাতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান। তাঁর অনুপস্থিতি কাউকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে না যাওয়ায় দলীয় কর্মকান্ডে সমন্বয়হীনতা আরও বেড়েছে বলছেন নেতা-কর্মীরা। সেইসঙ্গে সাধারণ সম্পাদকের ঘন ঘন বিদেশযাত্রা, স্থায়ীভাবে ঢাকায় অবস্থানের কারণে গতি আসছে না দলীয় কর্মকান্ডে। অপরদিকে, জেলার মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গেও অনেকক্ষেত্রে সমন্বয় নেই দলীয় নেতাদের। যে কারণে নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রেই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। মন্ত্রী-এমপিদের থেকে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীদের। বিএনপি : সুনামগঞ্জে রাজপথের বিরোধী দল বিএরপির রাজনীতি বর্তমানে অনেকগুলো গ্রুপে বিভক্ত। একদিকে রয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আর অন্যদিকে যার যারা মতো অবস্থানে আছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল হক আছপিয়া, সাবেক সভাপতি নজির হোসেন, সাবেক আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি জয়নুল জাকেরীন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রমুখ। জেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তিন মাস পর সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিচিতি সভায় দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ শেষোক্ত নেতারা সভা বর্জন করায় বিভিক্তির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর দলীয় ফোরামে আলোচনা না করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের একক সিদ্ধান্তে জেলা শ্রমিক দল ও মহিলা দলের কমিটি গঠন করেছেন বলে অভিযোগ এনেছেন সভা বর্জনকারী নেতারা। বর্তমান কমিটি মেয়াদ উত্তীর্ণ দাবি করে, দুঃসময়ে দলকে শক্তিশালী করতে কমিটি ভেঙে নতুন করে আহ্বায়ক গঠনের দাবি তাদের। দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৬ মে নাছির-মিলনের নেতৃত্বাধীন আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সভাপতি ও তৎকালীন জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপির ৫১ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর। এর প্রায় দুই বছর পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদ করা হয়। আংশিক কমিটি গঠনের সময় বর্তমান সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন ছাড়াও দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, নাদির আহমদ জেলা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব থাকার পরও তাদের মধ্য থেকে মিলনকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলে নাশোখ হন বাকিরা। আর সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়েও ছাত্রদল নেতা নূরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল জেলা যুবদলের সভাপতি আবুল মনসুর শওকতের। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়া নিয়ে আসন ভিত্তিক দ্বন্দ্বে জড়ান অনেকে। এর পর থেকে অনেকগুলো গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা বিএনপি। জাতীয় পার্টি : প্রয়াত খাদ্যমন্ত্রী মেজর ইকবাল হোসেনের সুবাদে সুনামগঞ্জ সদর আসনে শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি হয় জাতীয় পার্টির। ইকবাল হোসেনের মৃত্যুর পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই ধারাবাহিকাত ধরে রাখেন তার স্ত্রী বেগম মমতাজ ইকবাল। পরবর্তীতে তাঁরও মৃত্যুতে নেতৃত্বের শূন্যস্থান পূরণ করেন সাবেক ছাত্রনেতা পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। জাপায় যোগ দিয়ে টানা দুই মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি জেলা জাপার আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে হাল ধরে জাতীয় পার্টিরও। এর পর থেকে সদর আসনে উন্নয়ন এবং জাপাকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ করছেন সংসদের বিরোধী দলের হুইপ পীর মিসবাহ।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর