শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৫

প্রকৃতি

বহুরঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

বহুরঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি

কাঠবিড়ালি খুবই পরিচিত একটি প্রাণী। ছোট বেলায় বইয়ের পাতায় কাঠবিড়ালির কবিতা, ছড়া পাঠ করেননি এমন মানুষ মেলা ভার। আমাদের দেশে কয়েক প্রজাতির কাঠবিড়ালি রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো উড়ন্ত কাঠবিড়ালি। আর উড়ন্ত কাঠবিড়ালির রয়েছে তিনটি প্রজাতি। যার একটি হলো বহুরঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালি। এ প্রজাতিটির দেখা পাওয়া কঠিন। কারণ এরা বিরল ও নিশাচর প্রাণী। দিনে গাছের কোঠরে বা গর্তে লুকিয়ে থাকে, আর গভীর রাতে বের হয়। আইইউসিএন বাংলাদেশে এ প্রজাতিটিকে বিপন্ন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদের ইংরেজি নাম particolored flying squirrel. বৈজ্ঞানিক নাম  Hylopetes alboniger.  এদের নামের আগে উড়ন্ত হলেও বাস্তবে এরা উড়তে পারে না। এরা শরীরকে প্রসারিত করে হাওয়ায় ভেসে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। প্রকৃতিতে বুনো অবস্থায় এ প্রজাতির উড়ন্ত ছবি কেউ তুলতে পারেনি। সম্প্রতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে একটি দুর্লভ বহুরঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালির ছবি তুলেছেন বন্যপ্রাণী গবেষক ও আলোকচিত্রী আদনান আজাদ আসিফ। আর এটিই প্রথম কোনো বহুরঙা উড়ন্ত কাঠবিড়ালীর ছবি বলে তিনি জানান। জানা যায়, উড়ন্ত কাঠবিড়ালির হাত-পা একটা চামড়া বা পর্দা দিয়ে যুক্ত থাকে। এই পর্দার সাহায্যে বাতাসে এরা গ্লাইড করে চলে। এদের শরীর ঘন ধূসর-হালকা বাদামি লোমে ঢাকা।

 পেছনের দুই পায়ের রং সাদা। মুখের নিচের অংশও সাদা। এদের শরীর ও লেজের দৈর্ঘ্য সমান। দেহের দৈর্ঘ্য ২৫-৩০ সেমি.। আর লেজের দৈর্ঘ্য ২৫-৩০ সেমি.। এরা সচরাচর লোকালয়ে আসে না। রসালো ফলমূল, বীজ, কুড়ি, পাতাই এদের প্রধান খাদ্য। গাছের খোঁড়লে এরা ২-৩টি বাচ্চা প্রসব করে। সিলেটের চিরসবুজ বন ও বান্দরবানের বনাঞ্চলগুলোতে কদাচিৎ দেখা মেলে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, লাওস, মিয়ানমার, নেপাল, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে এদের দেখা যায়। বন্যপ্রাণী গবেষক আদনান আজাদ আসিফ বলেন, দেখতে সাধারণ কাঠবিড়ালির মতো হলেও এটি খুবই বিরল প্রাণী। বন ধ্বংস ও  চোরাশিকারিদের কারণে এরা প্রায় বিলুপ্ত।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর