শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:৪০

আজ জাতিসংঘ দিবস

শান্তি রক্ষায় ৬,৬৯২ সদস্য বাংলাদেশের

মাহবুব মমতাজী

শান্তি রক্ষায় ৬,৬৯২ সদস্য বাংলাদেশের

আজ ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস। বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৬ হাজার ৬৯২ জন সদস্য জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে অত্যন্ত সাহসিকতা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ৫ হাজার ৭৮ জন, নৌবাহিনীর ৩৪৭ জন, বিমান বাহিনীর ৫০৩ জন এবং পুলিশের রয়েছেন ৭৬৪ জন। নারী সদস্যদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৬৮ জন,  নৌবাহিনীর ৪ জন, বিমান বাহিনীর ১৬ জন এবং পুলিশের ১২৬ জন রয়েছেন। এর আগে মিশন সম্পন্ন করেছেন মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৭ জন। এর মধ্যে নারী ছিলেন ১ হাজার ৬০৯ জন। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের পদযাত্রা শুরু হয়। তবে গত কয়েক বছরে পুলিশের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নতুন শর্ত আরোপের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। আগের শর্তে বলা ছিল, পুলিশের কেউ তিন বছরের মধ্যে গুরুদ-প্রাপ্ত হলে মিশনে অংশ নিতে পারবেন না। মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে এটি পরিবর্তন করে নতুন শর্ত আরোপ করা হয়। নতুন শর্তে বলা হয়েছে, চাকরিজীবনে যে কোনো সময় গুরুদ-প্রাপ্ত হলে মিশনে অংশ নিতে পারবেন না। পুলিশের ইউএন ডেস্ক শাখা সূত্র বলছে, শর্তটি জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ীই করা হয়েছে। অথচ প্রিসেট (প্রি সিলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম) পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ভুক্তভোগীরা জানান, তিন দশক ধরে চলা জাতিসংঘের নিয়ম যা ছিল তা-ই আছে। বদলায়নি। আর নতুন শর্তটি চলছে এক বছর ধরে। এই নতুন শর্তের কারণে শান্তি রক্ষা মিশনের সেট (সিলেকশন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম) পরীক্ষায় উপস্থাপনের জন্য প্রিসেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণে যোগ্য প্রার্থীও পাচ্ছে না পুলিশ সদর দফতরের ইউএন ডেস্ক শাখা। নতুন শর্তের প্রভাব বেশির ভাগ পড়েছে ইন্সপেক্টর থেকে এএসআই পর্যন্ত নিচের দিকের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে। গত তিন বছরে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে পুলিশের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা জানান, ২০১৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত শান্তি রক্ষা মিশনে অংশ নিয়েছেন ১ হাজার ১৬২ জন পুলিশ সদস্য। ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত অংশ নিয়েছেন ৮২১ জন। আর গত বছর নভেম্বর পর্যন্ত অংশ নিয়েছেন ৮০৬ জন। জানা গেছে, সর্বশেষ ১০ অক্টোবর মালি শান্তি রক্ষা মিশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন পুলিশের ১১০ জন সদস্য। এ নিয়ে বর্তমানে শান্তি রক্ষা মিশনে মোট কর্মরত আছেন ৭৬৪ জন পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে এফপিইউয়ে (ফর্মড পুলিশ ইউনিট) কঙ্গোতে আছেন ১৮০ জন, মালিতে ৩৯০ ও দারফুরে ১৪০ জন। আইপিওতে (ইনডিভিউজুয়াল পুলিশ অফিসার) আছেন ৪৮ জন। এর মধ্যে সুদানের দারফুরে ২৩ জন, দক্ষিণ সুদানে ১৮ জন, কঙ্গোতে ২ জন, হাইতিতে ৩ জন, মালিতে ১ জন ও ইয়েমেনে ১ জন। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বিভিন্ন দেশে পুলিশ পাঠানোর বিষয়ে আগের শর্তে উল্লেখ ছিল, পুলিশে ন্যূনতম ৫ বছরের চাকরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা। এ ছাড়া গত তিন বছরে গুরুদ- পেয়েছেন এমন কোনো পুলিশ সদস্যের নাম পাঠানো যাবে না। সম্প্রতি শান্তি রক্ষা মিশনের জন্য প্রিসেট পরীক্ষায় আবেদন করতে না পারা একজন জানান, চাকরির শুরুতে মামলার কেস ডায়েরি দেরিতে পুলিশ সুপার অফিসে পাঠানোর জন্য তাকে গুরুদ- দেওয়া হয়। ২০ বছরের চাকরিতে গুরুদন্ডের মেয়াদ ৩ বছর পার হওয়ার পর তিনি পদোন্নতি পান এবং মিশনে যোগ দেন। নতুন শর্তের কারণে এখন তিনি মিশনের জন্য আবেদন করতে পারেননি।

বিষয়টি ইউএন ডেস্ক শাখাকে বিবেচনায় নিতে বললে তারা জানায়, এটি জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ীই করা হয়েছে। অথচ গত তিন দশকে যে নিয়ম চলছে, সেটি এখনো বদলায়নি। জাতিসংঘের নিয়মে ডিসিপ্লিনারির প্রসঙ্গে গুরুদ- ও লঘুদ- উভয়ই আছে। কিন্তু নতুন শর্তে বলা হচ্ছে, গুরুদ-প্রাপ্তরা পরীক্ষা দিতে পারবেন না, কিন্তু লঘুদ-প্রাপ্তরা পারবেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের গুরুদ- আর লঘুদন্ডের সঙ্গে সরকারি আপিল ও শৃঙ্খলা বিধিমালা, ২০১৮-এর মিল নেই। কারণ এ বিধিমালায় গুরুদ- বলতে বুঝিয়েছে- নিম্ন পদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহণ, চাকরি থেকে অপসারণ ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা। কিন্তু পুলিশের মাঠপর্যায়ে খুব সামান্য অপরাধের শাস্তিকেও (যেমন তিরস্কার) গুরুদ- হিসেবে দেখানো হয়। গত বছর ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তি রক্ষা মিশনের জন্য আইপিও প্রিসেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে দুই নম্বর শর্তে উল্লেখ করা হয়, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান অথবা মুলতবি কিংবা গত তিন বছরের মধ্যে গুরুদ-প্রাপ্ত হলে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। একই বছরের ২৭ আগস্ট আরেক বিজ্ঞপ্তিতে দুই নম্বর শর্তে তিন বছরের কথাটি তুলে দিয়ে বলা হয়, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কিংবা ফৌজদারি মামলা চলমান অথবা তদন্তাধীন কিংবা প্রক্রিয়াধীন অথবা চাকরিজীবনে কখনো গুরুদ-প্রাপ্ত হয়েছেন এমন ব্যক্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর