শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০৭

শিল্পকলায় সি-মোরগ

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

শিল্পকলায় সি-মোরগ

নাটকের দল বাংলাদেশ থিয়েটার শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চায়ন করেছে দর্শকনন্দিত নাটক ‘সি-মোরগ’। গত সন্ধ্যায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় নাটকটি। আসাদুল্লাহ ফারাজী রচিত এ নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন হুমায়ুন কবীর হিমু। এক জোতদার বজল শিকদার তার কুড়িয়ে পাওয়া মোরগের নামকরণ করে রূপকথার গল্পের শক্তিশালী ‘সি-মোরগ’-এর নামে। কারণ রূপকথার গল্পের সি-মোরগ আলমাস কুমারকে সাত সাগর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে নিয়ে যায় স্বপ্নের দেশ গুলবাহার পরীর দেশে। আর এ মোরগ পাওয়ার পর থেকে শিকদার মনে করে সে যা কিছুতেই হাত দেয় তা সোনা হয়ে ওঠে। কুসংস্কারাচ্ছন্ন, লোভী ও জোতদার শিকদার মনে করে কুড়িয়ে পাওয়া মোরগটি তার ভাগ্যের দুয়ার খুলে দিয়েছে; যার কারণে সে মোরগটিকে গভীরভাবে ভালোবাসে। মোরগটির লালন-পালনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। এ নিয়ে তার তিন স্ত্রীর সঙ্গেই নানা ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হয়। এভাবেই এগিয়ে যায় কমেডিনির্ভর নাটকটির কাহিনি। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন খন্দকার শাহ আলম, ফিরোজ খান, ফারজানা ফাতেমা চৌধুরী সুমি, মাসুদা খান, সুইটি আক্তার রনি, আজিজ রেজা প্রমুখ। শিল্পকলায় যাত্রা উৎসব : আবহমান বাংলার চিরায়ত ও লোকজ সংস্কৃতি যাত্রাপালা। রূপসী বাংলার নদীমাতৃক এ দেশের গ্রাম ও শহরের একমাত্র বিনোদনমাধ্যম হিসেবেও সমাদৃত ছিল সংস্কৃতির এ মাধ্যমটি। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি যাত্রাপালায় শিল্পীরা তুলে ধরতেন সমাজের নানা অসংগতি। অতিমাত্রায় বাণিজ্যিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে যাত্রাশিল্পে নানা ধরনের অশ্লীলতা সংযুক্ত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পমাধ্যমটি বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। যাত্রাপালার সুদিন ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে শিল্পকলা একাডেমি। এরই অংশ হিসেবে ‘যাত্রাশিল্পের নবযাত্রা’ স্লোগানে যাত্রা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে শিল্পকলা একাডেমি।

যাত্রাপালার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় শুরু হলো ১১তম যাত্রা উৎসব। গতকাল জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে দুই দিনের এ উৎসবের উদ্বোধন করেন একাডেমির সচিব মো. বদরুল আনম ভূঁইয়া। এ সময় নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, এস এম মহসিন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড. আফসার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বদরুল আনম ভূঁইয়া বলেন, বিভিন্ন আবহে লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য যাত্রাপালা হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই যাত্রাপালার সার্বিক মানোন্নয়ন ও দলগুলোকে নিবন্ধনের জন্য এ উৎসব। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে নরসিংদীর দীপ্তি যাত্রাদল পরিবেশন করে যাত্রাপালা ‘সাগর ভাসা’।

তনুশ্রী পদক পেলেন রেজা আরিফ : নাট্যচর্চার নিয়মিত সংগঠন নাট্যধারা প্রবর্তিত সৃজনশীল নাট্য তরুণ ২০১৯-এর তনুশ্রী পদক পেয়েছেন নাট্যকর্মী রেজা আরিফ। গত সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাট্যধারার তিন দিনের নাট্যোৎসবের উদ্বোধনীতে তরুণ এই নাট্যকর্মীকে এ পদক প্রদান করা হয়। পদকপ্রাপ্ত রেজা আরিফের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন নাট্যাভিনেত্রী লাকী ইনাম, উত্তরীয় পরিয়ে দেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার ও অর্থমূল্য ১৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন উৎসবের পৃষ্ঠপোষক অঞ্জনসের স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ। পদক প্রদান শেষে একই মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় নাটক ‘উজান ভাইটাল কইন্যা’। আজ সন্ধ্যায় মঞ্চায়ন হবে ভারতের ইফটা নাট্যদলের নাটক ‘ডিয়ার পাপা’। কাল সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চায়ন হবে নাট্যধারার নাটক ‘চার্লি’।


আপনার মন্তব্য