শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০৯

সোনা হচ্ছে ইমিটেশন

মির্জা মেহেদী তমাল

সোনা হচ্ছে ইমিটেশন

মুন্সীগঞ্জের নাসির তিন বছর আগে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে সিঙ্গাপুরে যান। সেখানে তার সঙ্গে পরিচয় হয় অপর বাংলাদেশি পারভেজের। কিছুদিন পর পারভেজ তাকে জানান, তিনি শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরবেন। পারভেজ দেশে ফেরার সময় নাসির তার সঙ্গে দেখা করেন। তার হাতে তুলে দেন প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের সোনার দুটি পায়েল, দুটি ব্রেসলেট, একটি নেকলেস, চারটি চেইন এবং দুটি আইফোন-১০ এক্স। স্বর্ণালঙ্কারসহ এসব পণ্যের দাম ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। স্বর্ণালঙ্কার ও আইফোনগুলো নাসির তার শ্যালক সাগরের কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। এগুলো বহনের জন্য পারভেজকে নগদ ৯ হাজার টাকাও দেন নাসির। এ সময় পারভেজের পাসপোর্টের কপি নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। পরদিন  রাতে বাংলাদেশে আসেন পারভেজ। দেশে  ফিরে সাগরকে ফোন করেন বিমানবন্দর গোলচত্বরে আসতে। রাত পৌনে ১২টার দিকে গোলচত্বরের সামনের সড়কের পাশে কাগজে মোড়ানো একটি প্যাকেট সাগরকে দেন পারভেজ। প্যাকেট খুলে সাগর দেখেন তার ভগ্নিপতির পাঠানো স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে প্যাকেটে থাকা স্বর্ণালঙ্কারের মিল নেই। তখন এ নিয়ে পারভেজকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, বিমানবন্দরের ভিতরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মালামাল রেখে দিয়েছে। এ কথা বলেই সাগরের হাত থেকে প্যাকেটটি নিয়ে প্রাইভেট কারে উঠে পালিয়ে যান পারভেজ। নাসির আর সাগর বুঝতে পারেন তারা প্রতারণার শিকার। বিদেশে এমন একটি চক্র দেশে ফেরার সময় প্রবাসীদের মালামাল নিয়ে আসে বাংলাদেশে। তারা প্রবাসীদের স্বজনদের কাছে আসল মালামাল ফেরত না দিয়ে নকল মালামাল ফেরত দেয়। ফেরত চাইলে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেয়। শুধু নাসির নন, একইভাবে বিভিন্ন সময়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী চাঁদপুর জেলার মো. আসিফ, নওগাঁ জেলার আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জের মো. দিদার, নোয়াখালীর মো. ইমামসহ আরও অনেকের মালামাল নিয়ে আসেন চক্রের সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে, সবার পাঠানো স্বর্ণালঙ্কার নিজের কাছে রেখে নকল গয়না দেওয়া হতো। বাংলাদেশে এসব প্রবাসীর স্বজনরা যোগাযোগের চেষ্টা করতেন। কিন্তু পেতেন না। এদের মধ্যে লিডার হলেন পারভেজ। সেই পারভেজকে গ্রেফতারের পর মিলেছে এমন চক্রের নানা তৎপরতার তথ্য। এই পারভেজকে প্রতারণার অভিযোগে ঢাকার তুরাগ থানা এলাকার কামারপাড়ার নিশাত নগর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল। পিবিআই সূত্র জানায়, সম্প্রতি পারভেজের কাছে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার শিলমান্দি গ্রামের মো. সাগর (২৬)। এই পারভেজ কখনো মুখভর্তি দাড়ি, কখনো ক্লিন শেভড; কখনো গোঁফ, কখনো মাথাভর্তি চুল, আবার কখনো চুল ছোট করে কাটা থাকে। বহুরূপী এই পারভেজ দীর্ঘদিন ধরেই এমন প্রতারণা করে আসছেন। ৩২ বছর বয়সী পারভেজ নানা রূপ ধারণ করে ফাঁদে ফেলতেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশিদের। সোনার গয়নাকে ইমিটেশনের গয়না বানিয়ে দিতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে প্রবাসীদের কাছ থেকে তিনি ২৯ লাখ টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পিবিআই জানায়, সিঙ্গাপুরে মালামাল নেওয়ার জন্য লোকজনের সঙ্গে দেখা করার সময় এক রূপে যেতেন পারভেজ। মালামাল নেওয়ার পর বেশভূষা বদলে ফেলতেন তিনি, যাতে পরে তাকে দেখে ওই ব্যক্তিরা চিনতে না পারেন। এভাবে বহুরূপে পারভেজ প্রতারণা করে আসছিলেন। প্রতারণার জন্য পারভেজ বিভিন্ন রূপে একাধিক পাসপোর্ট করেছেন। তার কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়। একটি পাসপোর্টের ঠিকানা ছিল টাঙ্গাইল, আরেকটি পাসপোর্টে পাবনার ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তাকে গ্রেফতারের পর বাংলাদেশি দুটি পাসপোর্ট, সোনার একটি নেকলেস, চারটি চেইন, দুটি নূপুর, দুটি ব্রেসলেটসহ বেশকিছু পণ্য উদ্ধার করা হয়।


আপনার মন্তব্য

close