শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০৪

অষ্টম কলাম

সোনা আমদানিতে কর কমানোর দাবি

রুহুল আমিন রাসেল

সোনা আমদানিতে কর কমানোর দাবি

এবার নামমাত্র শুল্ককর দিয়ে সোনা আমদানির সুযোগ চেয়েছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। আর বিদেশফেরত যাত্রীরা যে সোনার বার আনতে পারেন, তাও বন্ধের নির্দেশনা চেয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। তথ্যমতে, বর্তমানে একজন বিদেশফেরত বাংলাদেশি যাত্রী কোনো ধরনের শুল্ককর ছাড়াই ১০০ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার আনতে পারেন। আর ভরিতে ২ হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করে ২৩৪ গ্রাম বা ২০ ভরি পর্যন্ত সোনার বার আনার সুযোগ পান তারা। এ প্রসঙ্গে জুয়েলারি মালিকদের সংগঠন বাজুস সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা জুয়েলারি আমদানির পক্ষে না। ব্যাগেজ রুলে সোনা আমদানি বন্ধ করতে হবে। কারণ ব্যাগেজ রুলের আওতায় একজন যাত্রী সোনা আনতে দেন মাত্র দুই হাজার টাকা। ওই একই সোনা ব্যবসায়ীরা আমদানি করতে গিয়ে ভ্যাট ও শুল্ককরসহ ১২ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাহলে ক্রেতারা কেন ১২ হাজার বাড়তি খরচ করে আমাদের কাছ থেকে কিনবেন, এ প্রশ্ন ব্যবসায়ীদের।’ সোনা আমদানি সহজীকরণের দাবি জানিয়ে ২২ ডিসেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পত্র দিয়েছে বাজুস। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, দেশীয় জুয়েলারি শিল্পের বিকাশ ও রপ্তানি-বাণিজ্যের দুয়ার প্রসারিত। এ খাতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রস্তুত, বিক্রি ও বিপণনের জন্য সোনা আমদানিতে সাকল্যে ১ হাজার টাকা শুল্ককর নির্ধারণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পরও চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের কাস্টমস ট্যারিফ মোতাবেক ২ হাজার টাকা শুল্ককর (সিডি), ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস বলেছে, ওই হারে শুল্ককর ও অন্যান্য ডিউটি নির্ধারণের ফলে কোনো ব্যবসায়ী সোনা আমদানিতে উৎসাহিত হবেন না। ফলে স্বর্ণ নীতিমালা, ২০১৮ ও রপ্তানি-বাণিজ্যের সম্ভাবনা মুখ থুবড়ে পড়বে। চলতি বছর ১১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার মোতাবেক ১৮টি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে সোনা আমদানির লাইসেন্স গ্রহণ করেছে।

এই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য সব শর্ত পূরণে প্রতিষ্ঠানসমূহ এরই মধ্যে খরচ করেছে বিশাল অঙ্কের অর্থ। বাজুস তাদের পত্রে আরও বলেছে, একজন বিদেশফেরত বাংলাদেশি যাত্রী ভরিতে মাত্র ২ হাজার টাকা শুল্ক পরিশোধ করে ২৩৪ গ্রাম বা ২০ ভরি সোনার বার আনার সুযোগ পান। কিন্তু ব্যবসায়ী পর্যায়ে ওই একই পরিমাণ সোনার বার আমদানি করতে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম ভ্যাট (এটিভি) প্রদান করতে হয়, যা বাণিজ্য প্রসারে অন্তরায়। একজন যাত্রী কোনো ধরনের শুল্ককর পরিশোধ না করেই ১০০ গ্রাম সোনার অলঙ্কার আনতে পারেন। এ অবস্থায় দেশীয় শিল্পের প্রসারে ও বৈদেশিক বাণিজ্যের দুয়ার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অথরাইজড গোল্ড ডিলারের ক্ষেত্রে সোনা আমদানিতে সাকল্যে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে বিদেশফেরত বাংলাদেশি যাত্রীপর্যায়ে সোনার বার আনা বন্ধের নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হোক। জানা গেছে, দেশে বছরে ২০ থেকে ৪০ টন সোনা লাগে। এর বড় অংশ বিদেশফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে, কিছুটা আমদানি করে ও পুরনো সোনা গলিয়ে সংগ্রহ করা হয়। তথ্যমতে, সোনা ব্যবসায় সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বছর স্বর্ণ নীতিমালা করে। বাংলাদেশ ব্যাংক ১১ মার্চ সোনা আমদানির ডিলার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করে। ওই নীতিমালার আলোকে বৈধভাবে সোনা আমদানির জন্য একটি ব্যাংকসহ ১৮ প্রতিষ্ঠানকে ডিলার লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেককে দুই বছরের জন্য এই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে সোনা আমদানিতে প্রতি পদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- মধুমতি ব্যাংক, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, জুয়েলারি হাউস, রতনা গোল্ড, অরোসা গোল্ড করপোরেশন, আমিন জুয়েলার্স, স্রেজা গোল্ড প্যালেস, জরোয়া হাউস লিমিটেড, মিলন বাজার, এসকিউ ট্রেডিং, এমকে ইন্টারন্যাশনাল, বুরাক কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ, গোল্ডেন ওয়ার্ল্ড জুয়েলার্স, রিয়া জুয়েলার্স, লক্ষ্মী জুয়েলার্স, বিডেক্স গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড ও ডি ডামাস দি আর্ট অব গ্যালারি।


আপনার মন্তব্য