শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০৬

প্রকৃতি

লোকালয়ে হুতুম পেঁচা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

লোকালয়ে হুতুম পেঁচা

গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে সব সময় যে পাখি দেখা যেত তা হলো হুতুম পেঁচা। তবে সেই হুতুম পেঁচা এখন বিলুপ্তির পথে। দেখা যায় না এখন আনাচে কানাচে। গ্রাম বাংলার ছেলেমেয়েদের খেলার সঙ্গী ছিল। মজা করত ধরে নিয়ে। তবে পরিবেশ ভারসাম্যহীনতায় হুতুম পেঁচার দেখা পাওয়া বিরল। গতকাল দুপুরে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চত্বরে হঠাৎ একটি দুর্বল হুতুম পেঁচা এসে হাজির। পেঁচাটি একটি মোটরসাইকেলের ওপর বসে। বসামাত্রই উৎসুক মানুষ ঘিরে ধরে। নারী-পুরুষ অনেকে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে মোটরসাইকেল চালক মিজানুর রহমান উৎসুক মানুষদের একটু সরিয়ে হুতুম পেঁচাটির কাছে গেলেন। না, উড়ে যাওয়ার মতো শক্তি তার ছিল না। তিনি মোটরসাইকেলে গিয়ে বসলেন। হুতুম পেঁচাটিকে আদর করতে লাগলেন। হুতুম পেঁচাটি মায়ের আদর পেল। মিজানুর রহমান দুর্বল হুতুম পেঁচাটি নিয়ে পশু চিকিৎসকের কাছে যান। এই হুতুম পেঁচাকে বিভিন্ন জন বিভিন্ন নামে ডাকে। কেউ ধুধু, আবার কেউ লক্ষ্মীপেঁচা বলে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকে এই হুতুম পেঁচা চেনে না বললেই চলে। নির্বিচারে প্রাকৃতিক বৃক্ষ নিধন আর ফসল আবাদ করতে জমিতে বিভিন্ন প্রকার কীটনাশক ব্যবহারে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রাণীটি। প্রাণীবিদদের মতে, এই হুতুম পেঁচার নাম কোটরে পেঁচা। ইংরেজি নাম স্পটেড আউলেট, বৈজ্ঞানিক নাম অ্যাথিনি ব্রামা, গোত্র স্ট্রিগিদি।

প্রজাতির মধ্যে এই ছোট পেঁচার চোখের পুরো অংশটি সাদা। চোখের তারা ও পা হলুদ। পিঠের দিক গাঢ় বাদামি এবং তার ওপর বহু সাদা ফোঁটা থাকে। এরা জোড়ায় জোড়ায় এক জায়গায় বেশি থাকতে পছন্দ করে। বিভিন্ন রকমের ক্ষতিকারক পোকামাকড়, টিকটিকি, পাখির ছানা, নেংটি ইঁদুর এরা খাদ্য হিসেবে খায়। পেঁচা সাধারণত গাছের কোটরে কিংবা দালানের ফাঁক-ফোকরে বাস করে। বাংলাদেশে প্রায় ১৬ প্রজাতির পেঁচা দেখা যায়। এর মধ্যে হুতুম পেঁচাকে দেশের প্রায় সব জায়গায় কমবেশি দেখতে পাওয়া যায়। এদের প্রজননকাল নভেম্বর থেকে মার্চ। এই সময়ে এরা গাছের ফোকরে বা পুরনো বাসায় তিন-চারটি ডিম পাড়ে। ডিম থেকে বাচ্চা বের হতে প্রায় ৩৫ দিন লাগে। পেঁচা দিনের পাখি নয়, রাতের আঁধারে এরা মানুষের অনেক উপকারও করে।


আপনার মন্তব্য