শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৯

চীনা ভাইরাস ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনা ভাইরাস ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা

চীনের নতুন ভাইরাস সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (এসএআরএস) যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় স্থাপন করা হয়েছে থার্মাল স্ক্যানার। ঢাকায় চীন থেকে আসা সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের গতকাল থেকেই স্ক্রিনিং (পরীক্ষা) করা হচ্ছে। পরীক্ষায় নেগেটিভ রেজাল্ট পাওয়ার পরই যাত্রীদের দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম যাত্রীদের পরীক্ষার কাজ করছে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও নেওয়া হয়েছে একই ব্যবস্থা। তবে এই বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং করার কাজ শুরু হয়েছে রবিবার থেকে।

বিমানবন্দর সূত্র বলছে, চট্টগ্রাম থেকে চীনে সরাসরি ফ্লাইট না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য, দুবাই, ভারত হয়ে কানেকটিং ফ্লাইটে চীন থেকে অনেকে আসেন। কানেকটিং ফ্লাইটের কোনো যাত্রীর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ রয়েছে কিনা সেটির ওপর নজর রাখছেন চিকিৎসকরা। চীন থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানাতে ইমিগ্রেশনে বলা হয়েছে।

গত কয়েক দিন ধরে চীনে ছড়িয়ে পড়েছে রহস্যজনক এ ফ্লু ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দেশটির এক হাজারের বেশি নাগরিক। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দুজন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করছেন সে দেশের নাগরিকরা। এ অবস্থায় দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনের নতুন ভাইরাস যাতে কোনোভাবেই বাংলাদেশে ছড়াতে না পারে, সে জন্য নানা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। গতকাল চীন থেকে আসা তিনটি সরাসরি ফ্লাইটের যাত্রীদের ফিজিক্যাল স্ক্রিনিং করা হয়েছে। সাধারণত, বিমানবন্দরে স্থাপিত থার্মাল স্ক্যানারের ভিতর দিয়ে আসার সময় সংকেত দিলে ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কোনো যাত্রীর ব্যাপারে গতকাল এমন কোনো সংকেত দেয়নি থার্মাল স্ক্যানার। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত কারও শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেও থার্মাল স্ক্যানার সংকেত দেয়। এ হিসাবে ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে কোয়ারেনটাইন রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হবে। এর পর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওই যাত্রীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। হাসপাতালে এ ব্যাপারে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, ঢাকা-চীন-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ছয়টি ফ্লাইট যাওয়া-আসা করে। এসব এয়ারলাইনসযোগে প্রতিদিন চীন ও বাংলাদেশে বেশ কিছু যাত্রী আসা-যাওয়া করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিমান সংস্থাকে এ সম্পর্কে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ফ্লু ভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের রোগ। প্রধান লক্ষণ জ্বর। এর সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ থাকে। এই ভাইরাসের সঙ্গে প্রাণঘাতী রোগ সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপিরেটরি সিনড্রোমের (সার্স) মিল রয়েছে। শ্বাসতন্ত্রের অসুখ হাঁচি-কাশি একজন থেকে অপরজনে সংক্রমিত হতে পারে। এই ভাইরাস যদি একজন থেকে অপরজনের মধ্যে ছড়ায় তাহলে অতি দ্রুত সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি টিম নিবিড়ভাবে কাজ করছে। গত সোমবার চীনের এ ভাইরাস প্রতিরোধে বিমানবন্দরে বিশেষ সভা হয়। এতে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাসহ এ ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তাসহ বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বিমানবন্দরে কাজ করছেন। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল চীন থেকে আসা যাত্রীদের সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপ-পরিচালক বেণী মাধব বিশ্বাস বলেন, চীন থেকে আসা বিমানগুলোর যাত্রীদের আর্চওয়েতে স্ক্যান করা হচ্ছে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরওয়ার-ই-জামান বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ চীন থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং করছে। রবিবার থেকে স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে শাহ আমানতে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে সতর্কতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিমানবন্দর এলাকায়। পালাক্রমে চিকিৎসক ও মেডিকেল টিম কাজ করছে। এখনো পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ আছে এমন যাত্রী পাওয়া যায়নি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর