শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪২

ধরো-ছাড়ো বাণিজ্যের শিকার এফডিসি কর্মকর্তা বাবু

মাহবুব মমতাজী

ধরো-ছাড়ো বাণিজ্যের শিকার এফডিসি কর্মকর্তা বাবু

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন রপোরেশনের (বিএফডিসি) কর্মকর্তার মৃত্যুতে তোলপাড় শুরুর পর বেরিয়ে আসছে বেশকিছ চাঞ্চল্যকর তথ্য। আগ থেকেই ওই থানার বিরুদ্ধে ‘ধরো-ছাড়ো’ বাণিজ্যের অভিযোগ অসংখ্য। কারওয়ান বাজার ও শিল্পাঞ্চল এলাকার ব্যবসায়ীরা এর ভুক্তভোগী। এই বাণিজ্যের জন্যই মৃত্যুর দুই দিন আগেও এফডিসি কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকী বাবুকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় তাকে মারপিট করা হয়। পরে  মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসআই এবং এএসআইদের দিয়ে এসব বাণিজ্য করতেন বলে থানার সবার কাছে ওপেন সিক্রেট। গত ১৫ জানুয়ারি এফডিসি কর্মকর্তা বাবু ছাড়াও পাঁচজন মুরগি ব্যবসায়ীকে থানায় আটকে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। দুপুর ২টার দিকে এফডিসির পাশের মহানগরী হাঁস-মুরগি বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতির আড়ত থেকে তাদের আটক করা হয়। রাত ১০টার দিকে আড়তের সভাপতি ফজলুর রহমান মৃধা ও সহ-সভাপতি আবদুল বাতেন শেখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এপিএসকে জানানোর পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। থানা সূত্র জানিয়েছে, মুরগি ব্যাপারী এবং এফডিসির কর্মকর্তাকে আটকের নির্দেশ দিয়েছিলেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মাইনুল ইসলাম। থানা হেফাজতে থাকাকালে এই পুলিশ কর্মকর্তাই বাবুকে মারধর করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি দুপুরে মহানগরী হাঁস-মুরগি বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতির আড়তের সামনে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার একটি গাড়ি যায়। আড়তের সামনে বসে থাকাবস্থায় গাড়ি থেকে নেমে একজন এসআই কোনো কথা ছাড়াই মোহাম্মদ চাঁন মিয়া নামের মুরগির ব্যবসায়ীকে প্রথমেই আটক করে। এরপর পাশে থাকা মইন ও আবদুল রাজ্জাককে আটক করে। তাদের সঙ্গে থাকা ময়মনসিংহের ফুলপুর ও মুক্তাগাছার দুজন ব্যাপারীসহ মোট পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মোহাম্মদ চাঁন মিয়া এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি দুপুরের খাবার খেয়ে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। হঠাৎ এক দারোগা এসে তার হাত থাবা দিয়ে ধরে ফেলে। আটক করে নেওয়ার পর থানাতে একজন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। জানতে চায়, তারা কী করে, কত টাকার ব্যবসা করে এমন সব তথ্য। যিনি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন তাকে তারা চিনতে পারেননি। এ বিষয়ে মহানগরী হাঁস-মুরগি বাজারজাতকরণ সমবায় সমিতির সহ-সভাপতি আবদুল বাতেন শেখ জানান, আটকের বিষয়টি জানার পর তারা রাত ১০টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। সেখানে মন্ত্রীর এপিএস মনির হোসেনকে ঘটনাটি জানান। পরে এপিএস তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে অবহিত করেন। সবকিছু জানার পর ডিসি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের এসিকে ফোন করে বলেন, আপনি যা করছেন, তা যদি মন্ত্রী মহোদয় জানেন তাহলে আপনি থাকতে পারবেন না। এরপরই ওই ৫ মুরগির ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। জানতে চাইলে এসি মাইনুল ইসলাম জানান, রাস্তার ওপরে মুরগির দোকান থাকার বিষয়টি শোভনীয় নয়। তবে বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি তার জানা নেই, তিনি জেনে জানাতে পারবেন। বাবুর মৃত্যুর সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্তকালীন সময়ে তিনি কোনো কিছু বলবেন না। 

এদিকে সোমবার সহকর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এফডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় তারা সড়ক  অবরোধ করে রাখে। এতে প্রায় ঘণ্টাখানেক হাতিরঝিল-কারওয়ান বাজার সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের ডিসি বিপ্লব বিজয় তালুকদার এ প্রতিবেদককে জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) রুবায়েত জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসির নির্দেশে বাবুকে গ্রেফতারের অভিযোগের বিষয়ে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে মামলার আগে যে কাউকে গ্রেফতার করা যায়। আর এটি এসি কিংবা ওসি যে কেউ নির্দেশ দিতে পারেন। এডিসি রুবায়েত জামান বলেন, আমরা তদন্তে বেশ কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি। আরও কিছু তথ্য সংগ্রহের পর দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। রবিবার ভোরে শিল্পাঞ্চল থানা হাজতখানা থেকে আবু বক্কর সিদ্দিক বাবুর (৪৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের সাবেক স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসী বলেন, শনিবার সাত রাস্তা থেকে বাবুকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। পরে জানা যায়, এসআই জুয়েল তাকে গ্রেফতার করেন। জুয়েলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিই গ্রেফতার করেছিলাম। তবে এ সম্পর্কে কিছু জানতে হলে ডিসি মিডিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর