শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৪৬

পুলিশের ভুলে জেলে চা দোকানি রফিকুল

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

পুলিশের ভুলে জেলে চা দোকানি রফিকুল

যাকে ধরার কথা তাকে না ধরে নামের মিল থাকায় পুলিশ এক চা-বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে। পাঁচ দিন চা-বিক্রেতা জেলখানায়। বন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত এক আসামির নামের সঙ্গে মিল থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। চা-বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম (৪৩) শ্রীপুর পৌরসভার কেওয়া পশ্চিমখ- দারগারচালা (মসজিদ মোড়) এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে। তাকে ১৭ জানুয়ারি বিকালে শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) কফিল উদ্দিন গ্রেফতার করেন। মামলার প্রকৃত আসামি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী রফিকুল ইসলামের (৪০) জন্ম ১৬ জানুয়ারি ১৯৮০, বাবা-নূর মোহাম্মদ, মা-রহিমা খাতুন এবং ভোটার সিরিয়াল নম্বর-১৬১১। পুলিশের ভুলে গ্রেফতার হওয়া মো. রফিকুল ইসলামের জন্ম জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ২ এপ্রিল ১৯৭৭। তার বাবার নামও নূর মোহাম্মদ, মায়ের নাম জামিনা খাতুন। চা-বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের বাবা নূর মোহাম্মদ বলেন, কথা নেই, বার্তা নেই শুক্রবার বিকালে পুলিশ এসে ছেলের কাছে তার নাম ও বাবার নাম জানতে চায়। নাম শুনেই তার নামে ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে হাতকড়া লাগিয়ে দেয়। এলাকার লোকজন বারবার ‘রফিক নির্দোষ’ বললেও পুলিশ কর্ণপাত করেনি। রফিকও এ সময় অনেকবার কাকুতি-মিনতি ও কান্নাকাটি করে তার নামে কোনো মামলা না থাকার কথা বলছিলেন। কিন্তু এএসআই কফিল কারও মিনতির পরোয়া করেননি। বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, লাইসেন্সবিহীন করাতকলে গজারি গাছ চেরাই করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রফিকুল ইসলামকে আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় রফিকুলের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে শ্রীপুর থানাকে গ্রেফতারের নির্দেশ পাঠানো হয়। প্রকৃত আসামি রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি করাতকলের ব্যবসা করেন। মামলাটি তার বিরুদ্ধেই করা হয়েছিল। উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিনে রয়েছেন। এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান বলেন, পুলিশের একটু ভুলের কারণে একজন সাধারণ নিরপরাধ মানুষ জেল খাটছেন। এর দায় কে নেবে? এএসআই কফিল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, চা-বিক্রেতা রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর দীর্ঘ সময় থানায় রাখা হয়। তখন কেউ ব্যাপারটি জানাননি। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বলেন, মামলাটি আদালতে দায়ের করা। থানার মামলা হলে সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার ছিল। এখন আদালত সিদ্ধান্ত নেবে কে প্রকৃত আসামি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর