শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫২

জেলার রাজনীতি সিলেট

কমিটি নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ বিএনপিতে পুলিশ আতঙ্ক

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

কমিটি নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ বিএনপিতে পুলিশ আতঙ্ক

সিলেটে বড় দুই দলের জেলার রাজনীতি এখন দ্বিমুখী ধারায় প্রবহমান। গেল ডিসেম্বরে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে। বর্তমানে চলছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের তোড়জোড়। সম্মেলনে দায়িত্ব পাওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যদিকে জেলা বিএনপি চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। তিন মাসের এ কমিটির মেয়াদ পার হলেও ঘোষণা করতে পারেনি উপজেলা ও পৌর শাখার আহ্বায়ক কমিটি। দলটির নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। পুলিশের বাধায় নেতা-কর্মীরা ঘরোয়া সভাও করতে পারছেন না। জানা গেছে, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এ দুজনকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। তারা এখন পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কাজ করছেন। গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা আওয়ামী লীগে আগে ৭১ সদস্যের কমিটি ছিল। নতুন যে কমিটি আসবে তাতে সদস্যসংখ্যা ৭৫ হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এবারের কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা। অনুপ্রবেশকারীদেরও ঠেকানো হবে। তবে শুধু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনই নয়, জাঁকজমকের সঙ্গে মুজিববর্ষ উদ্যাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের। এ ছাড়া সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডও তুলে ধরতে চান দায়িত্বশীল নেতারা। এ প্রসঙ্গে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, ‘৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ করছি আমরা। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে এবার। যারা একাধিকবার সম্পাদকীয় পদে ছিলেন, তাদের পদোন্নতি হবে। নতুন ও পুরনোদের সমন্বয়ে শক্তিশালী কমিটি করব আমরা। কমিটিতে অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হবে না, কারও অনুরোধের ঢেঁকিও গেলা হবে না।’ তিনি জানান, ‘আগের কমিটির অনেকেই মারা গেছেন, কেউ কেউ বিদেশে চলে গেছেন। এদের সংখ্যা প্রায় ২০। এদের স্থলে সাবেক ছাত্রনেতা ও পরীক্ষিতদের মূল্যায়ন করা হবে।’ আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা বর্ণিল আয়োজনে মুজিববর্ষ উদ্যাপন করব। উপজেলা কমিটিগুলোও কর্মসূচি দেবে। একই সঙ্গে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরার পদক্ষেপও নিচ্ছি আমরা।’ এদিকে, সিলেট জেলা বিএনপির নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয় গেল বছরের ২৬ এপ্রিল। প্রায় পাঁচ মাস পর ২ অক্টোবর এ শাখায় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২৫ সদস্যের এ কমিটির মেয়াদ ছিল তিন মাস। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিজেদের আওতাধীন ১৭টি উপজেলা ও পৌর শাখায় সম্মেলন করতে পারেনি আহ্বায়ক কমিটি। জানা গেছে, সম্প্রতি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির বর্ধিত সভা হয় একটি হোটেলে। ওই সভায় ১৭টি উপজেলা ও পৌর শাখায় আহ্বায়কদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। তবে জকিগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোয়াইনঘাট উপজেলা শাখার আহ্বায়কদের নিয়ে মতবিরোধ ছিল নেতাদের মধ্যে। তার পরও সে তালিকা পাঠানো হয় কেন্দ্রে। কিন্তু প্রতিটি শাখায় না গিয়ে হোটেলে বসে করা আহ্বায়কদের সেই তালিকা অনুমোদন করেনি কেন্দ্রীয় বিএনপি। কেন্দ্র থেকে জেলার নেতাদের কাছে সব শাখায় গিয়ে বর্ধিত সভার নির্দেশ আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আহ্বায়ক কমিটির নেতারা ১৭টি ইউনিটেই বর্ধিত সভা করেছেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতারা এখন কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। কেন্দ্র থেকে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোর আহ্বায়ক তালিকা অনুমোদন পেলে সে মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন তারা। উপজেলা শাখাগুলো ইউনিয়ন শাখায় এবং ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড শাখাগুলোর কমিটি গঠন করা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী চাঙ্গা রয়েছেন। কিন্তু পুলিশের হয়রানিতে তারা ঘরোয়া সভা ও বৈঠক করতে সমস্যায় পড়ছেন। পুলিশ সাংগঠনিক কর্মকান্ডেও বাধা দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আহমদ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপিপন্থিরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এতেই বোঝা যায়, বিএনপির অবস্থান শক্তিশালী, তৃণমূল নেতা-কর্মীরা সংগঠিত। তবে পুলিশ বিএনপিকে বাধা দিচ্ছে। সরকারের ইশারায় পুলিশ বিএনপিকে দমিয়ে রাখতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত এলেই সব শাখায় আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হবে।

এরপর দ্রুততম সময়ে সব শাখার সম্মেলন শেষে জেলার সম্মেলন আয়োজন করা হবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর