শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৮

ছোট যমুনা এখন ডাস্টবিন

নদীর কান্না

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

ছোট যমুনা এখন ডাস্টবিন

ছোট যমুনা নদীকে কেন্দ্র করেই এক সময় নওগাঁ ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে অবৈধ দখল আর দূষণে নদীটি হারিয়েছে তার রূপ। নদীর দুই তীরের জমি অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছেন বাড়ি ও  কলকারখানা। এ ছাড়া নদীর উভয় পার্শ্বে ফ্লাডওয়াল নির্মিত হওয়ায় শহর এলাকার নদীর উভয় পাশের বাসিন্দারা ময়লা আবর্জনা নদীতে ফেলছেন। এতে নদীটি ‘বিশাল ডাস্টবিনে’ পরিণত হয়েছে। যার যখন মনে হয় তখন তাদের ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলছেন। এতে নদীর পানি দূষণসহ পরিধি সংকুচিত হচ্ছে। নদী দূষণের কারণে তীরবর্তী নাগরিকদের বসবাস দুরূহ হয়ে পড়েছে। এতে ভবিষ্যতে নদী দূষণের মাত্রা গুরুতর আকার ধারণ করবে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা। আর এসব দখল আর দূষণের কারণে নদী তার নাব্যতা হারিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর অবৈধ দখল ও দূষণ থেকে রক্ষায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও একুশে পরিষদ নামের দুটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। এ ছাড়াও অবৈধ দখলদাররা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ছোট যমুনা নদীতে পাকা, আধা-পাকা, দোকানঘর, কল-কারখানা, বাড়ি, মন্দির ও মসজিদসহ ২০০টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাই দ্রুত ছোট যমুনা নদী দখলমুক্ত এবং পুনঃখনন করে হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনার দাবি এলাকাবাসীর। এদিকে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলা ক্ষতিকর জেনেও কেবলমাত্র শহরে কোনো ডাস্টবিন না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে ময়লা-আবর্জনা নদীতে ফেলছেন। বাপা নওগাঁ শাখার সদস্য ও স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আবদুল বারী বলেন, শিল্পকারখানা ও অধিক জনসংখ্যার কারণে নদীগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। আবার অনেক নদী মানচিত্র থেকে ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে  গেছে। তেমনই একটি নদী আমাদের ছোট যমুনা নদী। সুন্দর বাংলাদেশের জন্য এই নদীগুলোকে পুনরায় জীবিত করা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে গেছে।


আপনার মন্তব্য