শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০২:০৫

সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনা

মুজিববর্ষ নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুজিববর্ষ নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্্যাপন উপলক্ষে কাউকে অতি উৎসাহী হয়ে ম্যুরাল তৈরি না করার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘মুজিববর্ষ নিয়ে কেউ অতি উৎসাহী হবেন না। এত উৎসাহী থাকলে ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর লাশ সেখানে পড়ে থাকত না। আমার মা (বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) এবং পরিবারের সদস্যদের রেড ক্রিসেন্টের শাড়ি দিয়ে দাফন করা লাগত না। এখন আমি মারা গেলে কী হবে তাও জানি। কাজেই কোনো বাড়াবাড়ি নয়। আমার কথা পরিষ্কার, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই, যার জন্য জাতির পিতা সারা জীবন কষ্ট করেছেন।’

গত রাতে সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় এ নির্দেশনা দেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ ও সংসদীয় দলের সাধারণ সম্পাদক নূর এ আলম চৌধুরী লিটন, সাবেক মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, এ কে এম শামীম ওসমান, হাবিবে মিল্লাত মুন্না, গাজী শাহনেওয়াজ, মাজহারুল হক প্রধান, মৃণালকান্তি দাস প্রমুখ। বৈঠকসূত্র জানান, মুজিববর্ষ উদ্্যাপন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি খবর পেয়েছি বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির অর্থ দিয়ে জাতির পিতার ম্যুরাল তৈরি করা হচ্ছে। এটা যেন করা না হয়। কেউ যেন অতি উৎসাহী হয়ে যত্রতত্র বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ না করে।’ এ সময় একজন মন্ত্রী বলেন, ‘নেত্রী, আমরা চাই জাতির পিতাকে সবাই স্মরণ রাখুক। সে কারণে ব্যতিক্রমী কিছু একটা করতে চাই। আমরা সেভাবেই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ তাকে থামিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল তা আমরা দেখেছি। আমার বাবার লাশ ৩২ নম্বর বাড়িতে পড়ে ছিল। মায়ের দাফন হয়েছে রেড ক্রিসেন্টের কাপড় দিয়ে। এত উৎসাহী কেউ তখন ছিল না।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর মায়ের একটা কথা উদ্ধৃত করে বলেন, ‘আব্বাকে (বঙ্গবন্ধু) আমার মা বলতেন, “আপনি যখন জেলে যান, তখন সাজানো বাগান রেখে যান। কিন্তু জেলখানায় যাওয়ার পরই এ বাড়ি (ধানমন্ডি ৩২) বিরানভূমি হয়ে যায়। কেউ আসে না। যদি আমাদের সহায়তা করতে হয়! আবার আপনি যখন আসেন, তখন বাগান ভর্তি হয়ে যায়।” কাজেই আমার এবং রেহানার পরিষ্কার বার্তা- আমরা চাই না মুজিববর্ষ নিয়ে বাড়াবাড়ি কিছু হোক। আমরা চাই গরিব মানুষের জন্য কিছু করতে। কারণ আমার বাবা গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্যই সারা জীবন কাজ করেছেন।’ সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে আমি “কারাগারের রোজনামচা”, “বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী” বই পাচ্ছি না। কোথায় গেলে পাব?’ এ সময় তাকে ধীরে চলার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে একজন মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমরা গ্রামে গ্রামে সোলার প্যানেল দিচ্ছি। আরও সোলার প্যানেল দেব।’ এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন তো প্রায় প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। টিআর-কাবিখার টাকা দিয়ে যারা ভূমিহীন, যাদের ঘর নেই, তাদের আশ্রয় করে দাও। তোমরা না পার আমাকে তালিকা দাও। আমি তাদের ঘরবাড়ি করে দেব। যাদের ঘরবাড়ি নেই তাদের কী কষ্ট তা আমি জানি। ’৭৫ সালের পর যে বাড়িতে নির্যাতন-অত্যাচার করা হয়েছিল তারাই বলতে পারে অত্যাচার ও কষ্ট কাকে বলে! আজকে অনেক উৎসাহী আছে। এরা কোথায় ছিল ওই সময়?’ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অধিবেশন বসবে। সেখানে যারা বক্তব্য দেবেন, আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে স্পিকারকে অবহিত করতে হবে। ১৯ মার্চ সংসদ চত্বরে শিশুমেলা হবে।’ সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা দেশে প্রতিটি সংসদীয় আসনে আমরা ফ্রি ক্যাম্প করব।

 ২৪ মার্চ সাইকেল র‌্যালির আয়োজন করব। সংসদ ভবন থেকে এ র‌্যালি শুরু হবে।’

সভায় ২৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩৫০ জন এমপির ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় সংসদে এমপি-মন্ত্রীদের উপস্থিতি কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা সংসদ অধিবেশন চলাকালে এলাকায় উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান রাখবেন না। কারণ এতে জেলার সংসদ সদস্যরা ভদ্রতার খাতিরে হলেও সেখানে উপস্থিত হন। এতে সংসদে কোরাম সংকট তৈরি হয়।’ পরবর্তী সময়ে যখন সংসদ অধিবেশন শুরু হয়, তখন থেকে বিষয়টি নজরে রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে। এটি যাতে পৃথিবীর সব দেশের সংসদের স্পিকারের কাছে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে পৌঁছানো হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে বলে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর