শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫০

বেচাকেনার ধুম

মোস্তফা মতিহার

বেচাকেনার ধুম

শেষ সময় বিবেচনা করে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় পাঠকদের ঢল নামছে। সেই সঙ্গে চলছে বেচাকেনার ধূম। এদিকে নিয়মানুযায়ী আগামীকাল অমর একুশে গ্রন্থমেলা শেষ হওয়ার কথা। তবে মেলা প্রাঙ্গণে কানাঘুষা চলছে, প্রকাশকদের দাবির মুখে মেলার সময় আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হতে পারে। কিন্তু বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেনি মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। সময় বৃদ্ধির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যেহেতু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি সেহেতু শেষ সময় বিবেচনা করেই মেলায় পাঠকদের ঢল নামছে। গতকাল ছিল এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২৬তম দিন। বিগত বছরগুলোর মতো এদিন শেষ সময়ের মেলায় ভিড় জমিয়েছেন অগণিত বইপ্রেমী। বিকাল ৩টায় মেলার প্রবেশদ্বার উন্মোচনের পর পাঠকদের আনাগোনা শুরু হয়। আর সন্ধ্যার দিকে তা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। এদিনের মেলায় শুধু আগতরাই ভিড় জমাননি, বইপ্রেমীরাও ভিড় জমিয়েছেন। শেষ দিকের মেলায় যেমনটি হয়ে থাকে গতকাল মেলার ২৬তম দিনে ঠিক তেমনটিই হয়েছিল। পাঠক ও লেখকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল বৃহস্পতিবারের মেলাপ্রাঙ্গণ। স্বাধীনতার স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাঙালির মননের প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি দুই প্রাঙ্গণেই ছিল পাঠকদের সরব উপস্থিতি।

এ সময়টাতে দর্শনার্থীদের পরিবর্তে প্রকৃত বইপ্রেমীদের আগমন ঘটে থাকে বলে এদিনের মেলার বিকিকিনিও ছিল আশাব্যঞ্জক। গতকাল নতুন বই প্রকাশিত হয় ১৫৫টি। প্রকাশকদের ক্ষোভ : ৭.১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর চিঠি দিয়ে বাংলা একাডেমি কয়েকজন প্রকাশকের সঙ্গে বিমাতাসূলভ আচরণ করেছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ প্রকাশকরা। বিদেশি লেখকের বই, সম্পাদিত বইয়ের মুদ্রণ ও বিক্রি, প্রদর্শনে নীতিমালার দোহাই দিয়ে ২৩ জন প্রকাশককে চিঠি দিলেও দোষী অনেক প্রকাশককে তারা চিঠি দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। আবিষ্কারের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হাসান বলেন, নবযুগ, ইউপিএল, অনিন্দ্যসহ বেশ কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৭.১ ধারা লঙ্ঘন করলেও বাংলা একাডেমি তাদের চিঠি দেয়নি। অনিন্দ্য প্রকাশনীর সামনে গিয়ে এ অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। কলকাতার কবি রুদ্র গোস্বামী পাঠকদের তার বইয়ের ওপর অটোগ্রাফ দিচ্ছেন বিষয়টি বাংলা একাডেমির নজরে আনার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে বাংলা একাডেমির সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। এদিকে পারিজাত প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শওকত হোসেন লিটু অভিযোগ করে বলেন, প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দিয়ে বাংলা একাডেমির স্টল মালিকদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, প্যাভিলিয়নের নিয়ম হচ্ছে ক্রেতারা এক প্রবেশ পথ দিয়ে প্যাভিলিয়নে প্রবেশ করে অন্য পথে বের হবে। কিন্তু প্যাভিলিয়নগুলোর চারপাশ খোলা থাকার কারণে এর আশপাশের স্টল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর নিরাপত্তার নামে বিকাল ৩টার পর প্রকাশকদের তাদের প্রকাশিত বই নিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় বলেও তিনি আক্ষেপ করেন। মেলাকে সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য প্রকাশকদের ওপর মেলার দায়িত্ব দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। অপেশাদার প্রকাশকদের স্টল বরাদ্দ দেওয়ার কারণে পাইরেসি হচ্ছেÑ এমন অভিযোগ এনে ভবিষ্যতে শুধু প্রকৃত প্রকাশকদের স্টল দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মেলায় তথ্যমন্ত্রী : ইমরান আকন্দ রচিত ‘বিপ্লবী নূর হোসেন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য গতকাল বইমেলায় এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বাংলা একাডেমির পুকুরপাড়ের মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে তথ্যমন্ত্রী আরও মোড়ক উন্মোচন করেন শিবুকান্তি দাসের ‘আমার বঙ্গবন্ধু আমার স্বাধীনতা’ এবং মোহাম্মদ হোসেনের  ‘মৃত্তিকা থেকে আকাশ ছুঁয়েছে যে নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।

মৌসুমী মৌর ‘পুড়িয়ে দেব তোমার কবিতা’ : কবি মৌসুমী মৌ’র কাব্যগ্রন্থ ‘পুড়িয়ে দেব তোমার কবিতা’ প্রকাশ করেছে পার্ল পাবলিকেশন্স। বইটি পাঠকদের মাঝে এরই মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে জানান এর প্রকাশক। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন জিনিয়া ঐশ্বর্য। ২৯টি কবিতা দিয়ে সাজানো এ বইটির দাম ৮০ টাকা।

মূলমঞ্চ : বিকাল ৪টায় মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় শামসুজ্জামান খান সম্পাদিত ‘বঙ্গবন্ধু নানা বর্ণে নানা রেখায় শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মাযহার। আলোচনায় অংশ নেন সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, এনামুল করিম নির্ঝর এবং আমীরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন মাহফুজা খানম।

গ্রন্থমেলায় হুমায়ুন আজাদকে স্মরণ : বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর মৌলবাদী চক্রের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে গতকাল বিকালে একুশে গ্রন্থমেলায় তাকে স্মরণ করা হয়। লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের তথ্যকেন্দ্রের সামনে আয়োজিত এ সভার শুরুতে হুমায়ূন আজাদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বক্তৃতা করেন কবি কাজী রোজী, শিল্পী ফকির আলমগীর, শিশুসাহিত্যিক লুৎফর রহমান রিটন, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম, গবেষক আসাদুজ্জামান আসাদ, কবি পিয়াস মজিদ, কবি জাহিদুল হাসান এবং হুমায়ুন আজাদের অনুজ সাজ্জাদ কাদির ও হুমায়ূন আজাদের কন্যা মৌলি আজাদ। সভাপতিত্ব করেন প্রকাশক ওসমান গনি।


আপনার মন্তব্য