শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৫৩

নাছিরকে নিয়ে রেজাউল, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শাহাদাতের মনোনয়নপত্র জমা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

নাছিরকে নিয়ে রেজাউল, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শাহাদাতের মনোনয়নপত্র জমা

উৎসবমুখর পরিবেশে গতকাল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। গতকাল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে মেয়র, সংরক্ষিত ও সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যালয়ে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় জানায়, মেয়র পদে ৯ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৫৮ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২২০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এখানে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনসহ মোট ২৮৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। 

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দলীয় নেতাদের নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। ২টার দিকে জমা দেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। আওয়ামী লীগ-বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে ছিল শীর্ষ পর্যায়ের নেতাসহ বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির প্রার্থী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আশঙ্কা করেছেন। তারা শুধু অভিযোগ, সমালোচনা করছেন। সরকারের ভালো কাজগুলো তারা দেখেন না। কর্ণফুলী টানেল হচ্ছে, পদ্মা সেতু হচ্ছে-এগুলো নিয়ে তো অভিযোগ শুনিনি। তিনি বলেন, নাগরিক পরিষদ গঠন করে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে আন্দোলন করেছি। নির্বাচিত হলে সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম গড়ে তুলব। সব পেশার মানুষ, বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে স্বপ্নের চট্টগ্রাম গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, প্রয়াত মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন রয়েছেন। মহিউদ্দিন ভাইয়ের চিন্তা-ভাবনা এবং বর্তমানের মেয়রের পরিকল্পনা ও চলমান প্রকল্প এগুলোকে বেগবান করব। পূর্বের মেয়রদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চট্টগ্রামকে পরিবেশবান্ধব, মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত সুস্থ চট্টগ্রাম গড়ে তুলব। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনও দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবে আলম শামীম, প্রবীণ আইনজীবী বদরুল খায়ের, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকার, রাষ্ট্রযন্ত্র, ইসি ও আওয়ামী লীগ মিশে একাকার হয়ে গেছে। ইসিকে বের হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রামের উপনির্বাচনে মানুষ ভোটকন্দ্রবিমুখ হয়েছে। ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করবে ইসি। প্রতিটি বুথে একজন করে সেনাবাহিনীর সদস্য নিয়োগ করতে হবে। যাতে ভোটার ও পোলিং এজেন্টদের সুরক্ষা হয়। ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি করে বিএনপি প্রার্থী বলেন, ২৯ মার্চ হচ্ছে নির্বাচন। কিন্তু এর আগে ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ-তিন দিন বন্ধ। লম্বা ছুটিতে মানুষ যদি বেড়াতে চলে যায় আর ভোট কেন্দ্রে আসবে না। এজন্য ২৯ মার্চের পরিবর্তন করে ৩১ মার্চ করার দাবি জানান তিনি। ভোটারদের ভোটমুখী করার চিন্তা থাকলে ৩১ মার্চ ভোটের দিন ঠিক করতে হবে। কারণ ছুটির জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনে ভোট কম পড়েছে বলে সবাই স্বীকার করেছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে চট্টগ্রামকে সুন্দর, হেলদি-স্মার্ট সিটি ও পর্যটননগরী হিসেবে গড়ে তোলার আশা নিয়ে নির্বাচন করছি। আশা করছি, জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। নির্বাচনে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের উপনির্বাচন ও ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখেছি, আওয়ামী লীগ প্রার্থী বা নৌকার প্রার্থী হলে সাত খুন মাফ হয়ে যায়। নৌকার প্রার্থী মানেই অবধারিত বিজয়-সেই কনসেপ্ট থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় জনগণ ভোট কেন্দ্রমুখী হবে না। আমাদের জন্য এক আইন সরকারি দলের জন্য অন্য আইন সেটা চলবে না।


আপনার মন্তব্য