শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মার্চ, ২০২০ ২৩:০৯

দুই সন্তান স্ত্রীকে খুন

এক মাসেও খোঁজ মেলেনি রাকিবের

আলী আজম

এক মাসেও খোঁজ মেলেনি রাকিবের

রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগানে গৃহবধূ মুন্নি বেগম এবং তার দুই শিশু সন্তান খুনের মামলার তদন্তে অগ্রগতি নেই। চাঞ্চল্যকর এই তিন খুনের পর পেরিয়ে গেছে প্রায় এক মাস। সন্দেহভাজন খুনি মুন্নি বেগমের স্বামী বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের (বিটিসিএল) উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিব উদ্দিন ভূঁইয়ার এখনো খোঁজ মেলেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, এক মাসের তদন্তে পুলিশ রাকিবের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে। তিনি অনলাইন ক্যাসিনো খেলতেন। ক্যাসিনো খেলে নিজের সব খুইয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ নিতে থাকেন। কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে ক্যাসিনো খেলে হেরেছেন। এতে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পুলিশের ধারণা, হতাশা থেকেই তিনি তার দুই সন্তান ও স্ত্রীকে খুন করে পালিয়েছেন। মুন্নি বেগমের পরিবারের অভিযোগ, রাকিবকে তার স্বজনরা লুকিয়ে রেখেছেন। এমনকি দেশত্যাগও করতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ। তবে পুলিশ বলছে, রাকিবের সন্ধান চলছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দক্ষিণখানের প্রেমবাগান এলাকার ৮৩৮ নম্বর বাড়ির ৪র্থ তলার বাসা থেকে মা মুন্নি বেগম (৩৭) এবং তার দুই সন্তান ফারহান উদ্দিন (১২) ও লাইভা ভূঁইয়ার (৩) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রকৌশলী রাকিব ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পরিবার নিয়ে ওই বাসায় উঠেছিলেন। হত্যাকান্ডের পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। প্রকৌশলী রাকিবকে ১২ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণখানে শেষ দেখা গেছে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ থাকা প্রকৌশলী রাকিব ঋণগ্রস্ত ছিলেন। আমরা ধারণা করছি, অনলাইনে ক্যাসিনো খেলে তিনি কোটি টাকা খুইয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসেও রাকিব নিখোঁজ হয়েছিলেন। কিছুদিন পর তাকে কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে স্বজনরা উদ্ধার করে নিয়ে আসে। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা কেউ বলতে পারেনি যে কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আসলেই প্রকৌশলী রাকিব কী করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিখোঁজ রাকিবের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। সেই অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্ত করছে পুলিশ। এ ছাড়া হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে একটি সবুজ রঙের ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। সেখানে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যার বিষয়টি প্রকৌশলী রাকিব উল্লেখ করেছিলেন। সেখানে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। ওই নম্বরে ফোন করলে বাড়িওয়ালীর নাম জানা যায়। ওই বাড়িওয়ালীকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মামালার বাদী ও নিহত মুন্নি বেগমের ভাই মুন্না রহমান বলেন, এক মাসেও আমরা নিখোঁজ রাকিবের সন্ধান পাইনি। তার নানার বাড়ি কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায়। ধারণা করছি, রাকিবকে স্বজনরা সীমান্ত এলাকা দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নাসির উদ্দিন বলেন, নিখোঁজ প্রকৌশলী রাকিবকে খুঁজে না পেলে ট্রিপল এই মার্ডারের ক্লু বের করা সম্ভব নয়। আমরা রাকিবের সন্ধান পেতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তাকে পাওয়া গেলে হত্যাকান্ডের জট খুলে যাবে।


আপনার মন্তব্য