শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৯ মার্চ, ২০২০ ২৩:৫৩

করোনাভাইরাসের প্রভাব

বাজেট বাস্তবায়ন ও তৈরিতে অনলাইন মনিটরিং জোরদার

মানিক মুনতাসির

বাজেট বাস্তবায়ন ও তৈরিতে অনলাইন মনিটরিং জোরদার

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে। থেমে গেছে অধিকাংশ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। ফলে বাজেট বাস্তবায়নও বাধার মুখে পড়েছে। এ জন্য অর্থবছর শেষে বাজেট বাস্তবায়নের গুণগত মান ন্যূনতম হারে ধরে রাখতে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে সরকার। এ জন্য মেগা প্রকল্পগুলোর কাজের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ই-ফাইলিং পদ্ধতিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে বাজেট বাস্তবায়নের নানা ধাপ অনলাইনের মাধ্যমেই মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আগামী জুনে ২০২০-২০২১ বছরের নতুন বাজেট প্রণয়নের কাজও বাধার মুখে পড়েছে। এর জন্য অন্যবারের মতো প্রাক-বাজেট আলোচনা বা প্রস্তুতি সভাগুলো আগের মতো না করে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে অনলাইনে। দ্রুত এ প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে সঠিক সময়ে বাজেট ঘোষণা সম্ভব হবে কিনা-তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘায়িত হলে সেটা বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা। এ জন্য বিকল্প অনলাইন ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অর্থবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।

একইভাবে চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য অনলাইন প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। করোনাভাইরাসের প্রভাবে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে স্থবিরতা নেমে এসেছে। যা ব্যক্তিগত, সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব যতটা কম হবে ক্ষতির পরিমাণ ততটাই কমবে বলে মনে করে সরকার। এ জন্য রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করদাতাদের হয়রানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে ৩৯ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে এই ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

এই অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৯ কোটি টাকা। তবে এই সময়ে শুল্ক-কর মিলিয়ে আদায় হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৭৬ শতাংশ। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মন্থর হয়ে আছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। যার প্রভাবে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কম হবে।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি বিপর্যস্ত। যার প্রভাবে আমরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে আগামী অর্থবছরগুলোয় একইভাবে রাজস্ব আদায় কমতে থাকবে। বহু মানুষ চাকরি হারাবে। কর্মসংস্থানে নতুন করে সংকট তৈরি হবে। ফলে বাজেট বাস্তবায়ন বাধার মুখে পড়বে।


আপনার মন্তব্য