শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ মার্চ, ২০২০ ২৩:৪৪

তিন বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল

পোশাকশিল্প

রুহুল আমিন রাসেল

তিন বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ আঘাতে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক পণ্যের ক্রয়াদেশ বাতিল করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রেতারা। এমন প্রেক্ষাপটে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যিক সুবিধা বা জিএসপি প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ হওয়ার সুখবরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন পোশাকশিল্প মালিকরা।

সর্বশেষ বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএর তথ্যমতে, গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এক হাজার ৫৯টি পোশাক কারখানার ৯২০ মিলিয়ন পোশাক পণ্যের অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। যার মূল্য ২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার। এসব কারখানায় প্রায় ২১ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। এদিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ন্যায়পাল কার্যালয় তাদের বাজারে বাংলাদেশি পোশাক পণ্যের জিএসপি সুবিধা বাতিলের আবেদন নাকচ করেছে। জানা গেছে, ২০১৬ সালে ইইউ ন্যায়পাল অফিসে শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা চারটি সংগঠন বাংলাদেশের শ্রমমান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জিএসপি সুবিধা বাতিলের আবেদন করে। গত ২৪ মার্চ জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ করে দিয়ে ইইউ ন্যায়পাল কার্যালয় বলেছে, শ্রম পরিবেশ ইস্যুতে ন্যায়পাল কার্যালয়ের তদন্তে বাংলাদেশের তেমন কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের শ্রমমান উন্নয়নে ইউরোপীয় কমিশন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে এবং যেভাবে যোগাযোগ রক্ষা করছে, তা ঠিক আছে। আগামীতে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে ইউরোপীয় কমিশন নেবে। করোনাভাইরাসের সংকটকালীন এমন সময়ে সুসংবাদ পেয়ে খুশি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইইউ যে সিদ্ধান্তটা দিয়েছে, শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। এটা আমাদের জন্য একটা সুসংবাদ। কারণ, শ্রম অধিকার বিষয়ে সব সময়ে সবাই পোশাকশিল্প মালিকদের সমালোচনা করে থাকেন। কিন্তু ইইউ ন্যায়পালের এই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমাদের বিরুদ্ধে শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের যে দুর্নাম, তা থেকে পোশাকশিল্প মালিকরা রক্ষা পেলাম। এতে সত্যের জয় হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।


আপনার মন্তব্য