শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ এপ্রিল, ২০২০ ০০:২৫

অন্যরকম এক বোটানিক্যাল গার্ডেন

মোস্তফা কাজল

অন্যরকম এক বোটানিক্যাল গার্ডেন

নান্দনিক শত শত পাখির কিচিরমিচির শব্দে এক অপরূপ পরিবেশ বিরাজ করছে রাজধানীর উপকণ্ঠের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা বোটানিক্যাল গার্ডেনে। এর মধ্যে কোকিলের কুহু কুহু ডাক স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে আনন্দের দোলা দিচ্ছে। দেশে করোনাভাইরাসের কারণে বন বিভাগের এ উদ্যানে চলছে সরকার ঘোষিত বন্ধ। ফলে এ উদ্যানে দর্শনার্থীদের আগমন না থাকায় সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কোকিলের ডাক শোনা যায়। এ পাখির ডাক বলে দিচ্ছে রাজধানীর পরিবেশ-প্রকৃতি ফিরে পাচ্ছে প্রাণ। এ বাগানের কয়েক হাজার গাছগাছালিতে শত শত নাম না জানা পাখির আগমন ঘটেছে। বিশালকায় এসব গাছের মধ্যে হরীতকী, বহেড়া, বট, জারুল, জাম, আম, কাঁঠাল ও কড়ই অন্যতম। পাখির মধ্যে বুলবুলি, ময়না, টিয়া, ঘুঘু, সাদা বক, কানি বক, মাছরাঙা, শালিক, ছাতারে, মুনিয়া, শ্যামা ও কোকিল অন্যতম। রয়েছে অতিথি পাখির দল। এ তালিকায় বাদ যায়নি ঈগল ও শকুন নামের বড় বড় পাখি। আর লেকের জল ও পদ্মপুকুরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডাহুক। পাশাপাশি            কমপক্ষে কয়েক প্রজাতির শতাধিক বানরের নতুন আশ্রয়স্থল হয়েছে সরকারি এ উদ্যানটিতে। বনের বাঁশঝাড় এলাকায় উন্মুক্ত অবস্থায় দেখা মেলে ছোট ও বড় বানরের আনন্দ নাচন। রয়েছে কয়েক প্রজাতির সাপ। পাশাপাশি গোলাপ বাগান এলাকায় দেখা গেছে লাল, কালো, হলুদ, সবুজ ও সাদা গোলাপ ফুলের সমাহার। এসব দৃশ্য দেখে একমুহূর্তে মন আনন্দে ভরে যাবে। আর সবুজ পাতায় ভরে গেছে বাগানের দেবদারু গাছ। এমন দৃশ্য না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এ ছাড়া মানুষের চলাচল না থাকায় প্রতিটি গাছ ফিরে পেয়েছে নতুন জীবন। সংশ্লিষ্ট অনেকে বলছেন, এ বাগানের ঐতিহ্য ফিরে গেছে তার অতীত ভুবনে। এখন ভোর হলেই পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙছে উদ্যানের আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষের। ভোরের বাতাসে মিলছে শুদ্ধতার অনুভূতি। এখানকার সড়কে নেই গাড়ির কর্কশ হর্ন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাজধানীবাসী যখন ঘওে, ঠিক তখনই ঢাকার এই জাতীয় উদ্যানের প্রকৃতি আর পরিবেশে ঘটছে পরিবর্তন। নেই তেমন ধুলোবালি। নেই কোনো কালো ধোঁয়া।

বোটানিক্যাল গার্ডেন-লাগোয়া রূপনগরের বাসিন্দা তমা সুলতানা বলেন, ভোরে ঘুম ভেঙে প্রথমবারের মতো বেশ কয়েকটি ময়না ও টিয়া পাখি দেখেছেন তিনি বোটানিক্যাল গার্ডেনে। শুনেছেন অগণিত পাখির কিচিরমিচির শব্দ। পাশাপাশি ময়না ও কোকিলের ডাক তাকে করেছে বিমোহিত। করোনাভাইরাসের জন্য ঘরে বন্দী থেকে যখন সবকিছু খারাপ লাগতে শুরু করে, তখন প্রকৃতি থেকেই আনন্দ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। চিড়িয়াখানা রোডের বাসিন্দা শাহিন ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন বাসা থেকে বের হয়েই কর্কশ শব্দে কান ঝালাপালা করে অফিসে যাওয়া আর বাসায় ফেরাই ছিল রুটিন। গতকাল বাজারে যাওয়ার পথে কমার্স কলেজ মোড়ে এসে অবাক হয়ে যাই। ঢাকার চিড়িয়াখানা সড়কে কর্কশ শব্দ নেই। ভেসে আসছে পাখির কিচিরমিচির ডাক। বিষয়টি আমার কাছে বিস্ময়কর মনে হলেও পরে বুঝতে পারলাম, পরিবেশ তার আপন ঠিকানায়। রাজধানীর ফুসফুস নামে পরিচিত জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে অনেক পাখির আগমন ঘটেছে।’ পল্লবীর বাসিন্দা সেলিম আশরাফ বলেন, ‘গতকাল ভোরে প্রধান গেট বন্ধ থাকলেও পুরো এলাকায় জনসাধারণের চলাচল না থাকায় অনেক পাখি গাছে গাছে কিচিরমিচির আওয়াজ সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর