শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মে, ২০২০ ২৩:৫২

কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি

করোনা ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অভিমত

নিজস্ব প্রতিবেদক

কঠোরভাবে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি
কমলাপুর রেল স্টেশনে গতকাল টিকিটের জন্য দূরত্ব মেনে লাইন দিতে দেখা যায় -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দেশে করোনা আক্রান্তের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যেই আজ থেকে চালু হচ্ছে গণপরিবহন। খুলে যাচ্ছে অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এত দিন করোনাভাইরাসের থাবা থেকে বাঁচতে ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু এখন কর্মক্ষেত্র, রাস্তাঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। সচেতন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই বলেও বলছেন চিকিৎসকরা।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অফিস খুলে যাচ্ছে। সীমিত আকারে গণপরিবহনও চালু হচ্ছে। কিন্তু থেমে নেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা। তাই করোনার হাত থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সর্বোত্তম উপায়।

গতকাল তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঈদের আগে মানুষের ঢাকা ছাড়ার ঢল ছিল। ঈদ শেষ হতেই শুরু হয়েছে ঢাকায় ফেরার তাড়া। এতে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়েছে। এর মধ্যে সরকার অফিস কার্যক্রম চালু করছে। অর্থনীতিকে বাঁচাতে সরকার এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সবার কাজে ফেরার তাগিদ শুরু হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, অফিসগুলোয় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটাতে হবে, কর্মীদের অবশ্যই মাস্ক পরে অফিসে কাজ করতে হবে। জনগণ যদি সচেতন হয় তাহলেই একমাত্র করোনা ঠেকানো সম্ভব। কাজে গেলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। অফিসে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা খুব জরুরি। লকডাউন পরিস্থিতির ভিতরে জনগণের সচেতনতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছে জনগণকে ঘরে রাখতে। কিন্তু এখন লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন আর ঘরে রাখতে কেউ জোর দেবে না। তাই বাঁচতে চাইলে নিজ দায়িত্বে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই চালু হচ্ছে গণপরিবহন, অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তাই সুস্থ থাকার একমাত্র পরামর্শ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। এ সময় গণপরিবহন ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা মানতে হবে। গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ ও জনগণ দুই পক্ষকেই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। গতকাল তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গণপরিবহন মালিকরা ৮০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সুপারিশ করেছেন। কিন্তু এর পরও যদি তারা বেশি মানুষ বাসে তোলেন তাহলে তা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে। এ ছাড়া বাসের সিট-হাতলে বারবার জীবাণুনাশক স্প্রে করতে হবে। জনগণকেও সচেতন হতে হবে। বাস থেকে নেমে হাত ধুতে হবে, নাকে-মুখে হাত দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে গিয়েও সচেতনতা বজায় রাখতে হবে। একটু অবহেলা, অসতর্কতা বিপদ ডেকে আনবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নাজমুল করিম মানিক বলেন, আজ থেকে লকডাউন উঠে স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। জীবিকার তাগিদে ঘরের বাইরে বের হতে হবে মানুষকে। কিন্তু থেমে নেই করোনাভাইরাস সংক্রণের হার। তাই করোনার হাত থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। গতকাল তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনা সংক্রমণের পর মানুষকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু অর্থনীতিকে বাঁচাতে সরকার লকডাউন তুলে নিয়েছে। গণপরিবহনসহ চালু হচ্ছে অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। তাই আজ থেকে রাস্তায় নামতে হবে মানুষকে, কাজ শুরু করতে হবে নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে। রাস্তাঘাটে, বাসে সামাজিক দূরত্ব অবশ্যই মেনে চলতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। অফিসে চেয়ার কাছাকাছি থাকলে প্রয়োজনীয় দূরত্ব বজায় রেখে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে কেউ হাঁচি-কাশি দিলে জলকণা গায়ে না পড়ে।


আপনার মন্তব্য