শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৫০

সংস্কারের অভাবে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরকারের ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন নেমেছে প্রায় অর্ধেকে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ১৩০ মেগাওয়াটের কম। এতে দেশের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে সরকারি মালিকানার সবচেয়ে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ থেকে। অপরদিকে গত ২ বছর ১০ মাসে সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় ১৬ থেকে ২২ টাকা। সেখানে সরকারি মালিকানাধীন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৪০ পয়সার কম। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি ওভারহোলিংয়ের (পূর্ণাঙ্গ সংস্কার) জন্য এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে। করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় ইউনিটটি আগামী এপ্রিলের আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট দুটির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় ২০১৮ সালে। দরপত্র নিয়ে টালবাহানায় দুই বছরেও শুরু হয়নি সংস্কার কার্যক্রম। এদিকে সংস্কারের অভাবে গত ২ বছর ১০ মাসে (অক্টোবর পর্যন্ত) সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন না হওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, গত ২ বছর ১০ মাসে ৪ নম্বর ইউনিটটি ১১ হাজার ২২৮ ঘণ্টা ও ৫ নম্বর ইউনিটটি ১০ হাজার ৮৯ ঘণ্টা চালানো হয়। যান্ত্রিক ত্রুটি থাকায় ইউনিট দুটি থেকে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ৮৮৮ ইউনিট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হয়েছে, প্রতি ইউনিট ৪০ পয়সা করে যার উৎপাদন মূল্য ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫৫ টাকা। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানিসহ অনেক বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ২২ টাকা দরে ক্রয় করছে। এই দরে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিটে কম উৎপাদিত হওয়া বিদ্যুতের মূল্য দাঁড়ায় ৪০২ কোটি ৫১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৬ টাকা। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিট দুটি সময়মতো সংস্কার না হওয়ায় সরকারকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে বাড়তি গুনতে হয়েছে (উৎপাদন খরচ বাদে) ৩৯৫ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮১ টাকা। আর বাড়তি খরচের এই বোঝা শেষপর্যায়ে গিয়ে চাপছে ভোক্তার কাঁধে। বাড়ছে বিদ্যুৎ বিল। বাড়ছে এই খাতে সরকারের ভর্তুকি। বর্ষাকালে কাপ্তাই লেকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জুন-জুলাই-আগস্টে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সর্বোচ্চ উৎপাদনে থাকে। গত বছরের ৩০ জুলাই পিক সময়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২১৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও চলতি বছরের ৩০ জুলাই উৎপাদন হয়েছে সর্বোচ্চ ১৪৫ মেগাওয়াট। আগস্টের ৩০ তারিখে উৎপাদন নামে ৯০ মেগাওয়াটে। বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ১২৫ মেগাওয়াটের মতো। এদিকে দ্রুত সংস্কার করা না হলে ইউনিট দুটির বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন খোদ বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা। তখন শত কোটি টাকার কাজ হাজার কোটিতে গিয়ে ঠেকবে বলে জানিয়েছেন অনেকে। জরুরি ভিত্তিতে ইউনিট দুটির জেনারেটরসহ মালামাল সরবরাহে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রথম দরপত্র আহ্বান করা হলেও এখনো শুরু হয়নি সংস্কার কাজ। এরপর কয়েক দফা দরপত্রে পরিবর্তন, সময় বৃদ্ধি ও পুনঃদরপত্রের পর বর্তমানে ফাইলটি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে আছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্র) ব্যবস্থাপক মো. এ টি এম আবদুজ্জাহেরকে ফোন করলে তিনি বলেন, করোনার কারণে ২ নম্বর ইউনিটটির ওভারহোলিয়ের কাজে বিলম্ব হচ্ছে। আশা করছি আগামী এপ্রিলের মধ্যে হয়ে যাবে। ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট সংস্কারের ফাইলটি মন্ত্রণালয়ে আছে। সেখান থেকে অনুমোদনের জন্য ক্রয় কমিটিতে যাবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর