শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৩

রেজাউলের চেয়ে সম্পদ বেশি শাহাদাতের

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

রেজাউলের চেয়ে সম্পদ বেশি শাহাদাতের

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে দুই হেভিওয়েট মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সেই নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষমতায় না থেকেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর চেয়ে ধনী বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ নামে নগদ আছে মাত্র এক লাখ টাকা। অন্যদিকে মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের নগদ আছে ১৫ লাখ টাকা। পক্ষান্তরে রেজাউলের নামে কোনো মামলা না                 থাকলেও ডা. শাহাদাত হোসেনের কাঁধে ঝুলছে ৪৮টি মামলা। নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী : হলফনামা সূত্রে জানা যায়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭ লাখ ৮ হাজার ৫৩৯ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩২ লাখ ২৭ হাজার ৯০ টাকা। নিজ নামে না থাকলেও স্ত্রীর নামে আছে ২০ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড। একটি ৪ লাখ টাকা দামের মোটরগাড়ি আছে নিজ নামে। স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে বিবাহসূত্রে নিজ নামে ৫০ হাজার টাকা মূল্যমানের ২০ তোলা স্বর্ণ ও স্ত্রীর নামে ৬০ হাজার টাকা মূল্যমানের ৪০ তোলা স্বর্ণ আছে। বিবাহসূত্রে নিজ নামে ১০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র আছে। অন্যান্য অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূলধন ২ লাখ টাকা ও ফার্মের মূলধন ১০ লাখ ৬ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে অন্যান্য অস্থাবর সম্পত্তি মেসার্স চৌধুরী ইলেকট্রনিকসে আছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ফার্মের মূলধন ২ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা ও ঋণ হিসেবে আছে ৪ লাখ টাকা। নিজের বার্ষিক আয় বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান থেকে ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা, ব্যবসায় নিজের কোনো আয় না থাকলেও নির্ভরশীলদের আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ফার্মের শেয়ার থেকে নিজের আয় ২ হাজার ১০০ টাকা ও নির্ভরশীলদের আয় ৫০ হাজার ৩০০ টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে কৃষি ও অকৃষি জমি নেই রেজাউল করিম চৌধুরীর। কিন্তু স্ত্রীর নামে দুই গন্ডা দুই কড়া অকৃষি জমি আছে। দালান, আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পদের মধ্যে নিজ নামে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভূমির ওপর আবাসিক গৃহ রয়েছে, যার মূল্য ১ লাখ টাকা ও যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রাপ্ত চার ভাগের এক অংশ। নিজ নামে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট, যার মূল্য ১ কোটি ৯ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৭ টাকা। নিজের নামে কোনো ঋণ ও দেনা নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর। চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট এলাকার খ্যাতনামা বহদ্দারবাড়ির হারুন অর রশীদ চৌধুরীর বড় সন্তান রেজাউল করিম চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ। রাজনৈতিক জীবনে কোনো মামলা-মোকদ্দমার মুখোমুখি হননি তিনি। পেশায় ব্যবসায়ী এ রাজনীতিবিদ মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন : হলফনামা সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন পশ্চিম বাকলিয়ার ডিসি রোড এলাকার আহমদুর রহমানের ছেলে শাহাদাত হোসেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস ডিগ্রিধারী। পেশায় একজন চিকিৎসক। তার বিরুদ্ধে আদালত ও নগরের বিভিন্ন থানায় ৪৮টি মামলা বিচারাধীন আছে। বিএনপির ডা. শাহাদাতের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৭৪ হাজার ৬২৫ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্যান্য ভাড়া বাবদ নিজের আয় ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২৫ টাকা, পেশাগত আয় ১৭ লাখ ২১ হাজার ৬০০ টাকা। অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাতের নিজ নামে অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৯ হাজার ২২৭ টাকা। এর মধ্যে নিজের নগদ আছে ১৫ লাখ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৭ টাকা। নিজের নামে বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার বাবদ ৩ লাখ ৭১ হাজার ৩৫০ টাকা। শাহাদাতের নিজের নামে ১১ লাখ ৮০ হাজার মূল্যমানের কার (ফিল্ডার-টয়োটা) ও ২৭ লাখ ২০ হাজার মূল্যমানের ভি-৭৩ মডেলের পুরনো জিপগাড়ি আছে। ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের নিজের নামে স্বর্ণালঙ্কার আছে। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মধ্যে নিজ নামে ২৫ হাজার টাকা মূল্যমানের ফ্রিজ ও ২৫ হাজার টাকা মূল্যমানের টিভি আছে। খাট, সোফাসেট, আলমিরা, ওয়ারড্রপ মিলিয়ে নিজ নামে আসবাবপত্র আছে ৭৫ হাজার টাকার। অন্যান্য সম্পদের মধ্যে ট্রিটমেন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিজের ব্যবসায়িক মূলধন ৩ কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৬০০ টাকার সম্পদ আছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে ডা. শাহদাতের নিজ নামে আছে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ। এর মধ্যে নিজ নামে ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ১৮ শতক এবং ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের ১.৫ কাঠা অকৃষি জমি রয়েছে। নিজ নামে ৬৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকার আটতলা একটি দালানের এক অংশ আছে। এ ছাড়া ৩৫ লাখ টাকা দামের একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে শাহাদাতের। ব্যাংক ঋণের মধ্যে শাহাদাতের নিজ নামে উত্তরা ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানে ৩ কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে ২৯ লাখ ৮১ হাজার ১৩২ টাকা ঋণ আছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর