শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মার্চ, ২০২১ ২৩:২৫

স্কুলছাত্রের মৃত্যু হত্যা না দুর্ঘটনা?

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৯ সালের ৬ জুলাই রাত ১০টা ৪০ মিনিটের ঘটনা। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকার শিউলী বেগম মোবাইল ফোনে কল পান অচেনা নম্বর থেকে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে জানানো হয়, তার ছেলে রাকিব (১৭) মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপর মডার্ন হারবাল সেন্টারের উল্টো পাশে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এখন সে তেজগাঁও বিজি প্রেসের সামনে আছে। এ খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্বজনরা। ততক্ষণে রাকিবকে পাঠানো হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে দুর্ঘটনার নাটক সাজানো হয়েছে। ওইদিনই হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন রাকিবের বাবা দিল মোহাম্মদ খান।

এদিকে থানা পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) প্রায় এক বছর তদন্ত শেষে জানিয়েছে, রাকিবকে হত্যা করা হয়নি; তার মৃত্যু হয়েছে দুর্ঘটনায়।

রাজধানীর সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রাকিবের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনা ভিন্নখাতে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তার দাবি- ‘২০১৯ সালের ৬ জুলাই রাকিবকে হত্যা করা হয়। প্রভাবশালী মহল প্রথম থেকেই ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ বলে চালানোর চেষ্টা করছে। হত্যার পর সাদী নামে এক যুবককে আটক করলেও পুলিশ তার জবানবন্দী না নিয়ে ছেড়ে দেয়। পুলিশের বিরুদ্ধে এই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত দায়সারা ও গাফিলতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাকিবের বাবা আরও বলেন, হত্যায় জড়িতরা রাকিবের গাড়িটি পাঁচ হাজার টাকায় প্রতিদিন ভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। রাকিব রাজি হয়নি। আর তাদের মাদক ব্যবসার তথ্য সে জানত। এই তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়। এর আগেও একাধিকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলাটি পিবিআই তদন্ত করার কারণে পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হন এবং নারাজি দেন। ঢাকা সিএমএম আদালত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মামলাটি র‌্যাব-৩ কে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, সিদ্ধেশ্বরীর খন্দকার রোডের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদ খানের ছেলে ইফরান খান রাকিব মগবাজার ন্যাশনাল ব্যাংক পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ২০১৯ সালের ৬ জুলাই সন্ধ্যার পর রাকিব তার বোনের স্বামীর প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-৪২-২৭৪৯) নিয়ে বন্ধু রাফিদসহ বেড়াতে যায়। প্রাইভেটকার চালাচ্ছিল রাফিদ। ভিকারুন্ননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে গাড়িতে ওঠে রাকিবের বন্ধু সাদি। তিন বন্ধু প্রাইভেটকার নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ায়।

এই বিভাগের আরও খবর