শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০

ডলারের বাক্সে কাগজ, ৫ লাখ টাকা খোয়ালেন যুবক

মাহবুব মমতাজী

ফুটবল খেলা আর ব্যবসার নামে ঢাকায় এসে প্রতারণায় জড়িয়েছেন অনেক আফ্রিকান। সম্প্রতি আফগানিস্তান থেকে ডলারভর্তি বক্স পাঠানোর নামে প্রতারণাকারী দুই আফ্রিকানসহ চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। পুলিশ বলছে, চক্রের একটি অংশ দেশে অবস্থান করে, অপর অংশটি থাকে দেশের বাইরে। তারাই মূলত বিদেশি কোম্পানির কাগজপত্র পাঠিয়ে প্রতারিত করে সাধারণ মানুষদের।

গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর ভুয়া ছবি ব্যবহার করে আমেরিকান আর্মির নার্স পরিচয় দিয়ে একজন ইনস্টাগ্রামে যোগাযোগ করেন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের সঙ্গে। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে ওই নার্স জিল্লুর রহমানকে                জানান, তিনি এখন আফগানিস্তানে কর্মরত অবস্থায় একটি ডলারভর্তি বক্স কুড়িয়ে পেয়েছেন। ডলারভর্তি বক্সটি জিল্লুরকে পার্সেলে পাঠানোর প্রস্তাব দেন তিনি। লোভে পড়ে প্রতারকের ফাঁদে পা দেন জিল্লুর।

তিন দিন পর বক্সটি ‘জেভিকে ইন্টারন্যাশনাল মুভার্স’ নামে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে জিল্লুরের হোয়াটসঅ্যাপে একটি রসিদ পাঠান ওই নার্স। পরদিন চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয়ে এক নারী বক্সটি বুঝে নিতে চার্জ বাবদ ৬৫ হাজার টাকা দাবি করলে বক্স হাতে না পেয়েই এবি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে দেন জিল্লুর। এর পরও পার্সেল বুঝিয়ে না দিয়ে কূটনীতিক পরিচয়ে আরও ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দাবি করলে সিটি ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেন ভুক্তভোগী জিল্লুর। অবশেষে পার্সেল না দিয়েই যোগাযোগ বন্ধ করে দেন সেই নার্স। প্রতারণার শিকার জিল্লুর বলেন, ‘আমাকে বলা হয়, একটা পার্সেল আসবে। আপনার কাস্টমস ফি আসতে পারে, নাও আসতে পারে। যদি দেওয়া লাগে তাহলে ফি দিয়ে সংগ্রহ করে নেবেন। এটা কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। এ পার্সেলের জন্য ওই নার্স আমার কাছ থেকে ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা নিয়ে নেন। এরপর যখন আমার কাছে আরও ৮ লাখ টাকা চান, তখনই বিষয়টি বুঝতে পারি। এসব ঘটনা ঘটে গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।’ এসব ঘটনায় তেজগাঁও থানায় গত ৫ ডিসেম্বর অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন জিল্লুর রহমান। এরপর তদন্তে নেমে ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রইম বিভাগ। তারা হলেন- আরিফা সুলতানা শিমু ওরফে নুরজাহান, উইলসন দা কনসিকাও এবং এনগোনো এনগোডো। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, আর বাকি দুজন গাম্বিয়া ও ক্যামেরুনের নাগরিক। এই চক্রের আরও এক সদস্য ফ্রান্সে অবস্থান করে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ডিবি সূত্র। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশ জানতে পেরেছে, ইনস্টাগ্রামে জিল্লুরের কাছে হল এডওয়ার্ডস ওয়াকার নিজেকে আমেরিকান আর্মির নার্স পরিচয় দেন। বলেন, তিনি আফগানিস্তানে কর্মরত আছেন। মূলত তার নাম প্যাসকাল এনকোনগো। তিনি থাকেন ফ্রান্সে। আর চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন আরিফা সুলতানা শিমু। তিনিই কাস্টমস চার্জ বাবদ ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। আর উইলসন দা কনসিকাও এবং এনগোনো এনগোডো নিজেদের ডিপ্লোম্যাট এজেন্ট পরিচয় দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে জিল্লুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা এয়ার ফোর্সের জরিমানা হিসেবে ৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। চক্রটি বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে। সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মহিদুল ইসলাম জানান, ফেসবুকে প্রতিনিয়ত আমেরিকান নেভি, আমেরিকান নার্স, আর্মি পরিচয়ে ফেক আইডি খোলে প্রতারকরা। একটু ধনী শ্রেণিকে টার্গেট করে ইংরেজি ভাষায় মেসেজ পাঠায় তারা। এতে ভুক্তভোগীদের এক ধরনের বিশ্বাস তৈরি হয়। আফ্রিকা থেকে ফুটবল খেলার ও ব্যবসার নাম করে অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে এসে অবস্থান করা কয়েক হাজার আফ্রিকানকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর