শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ মার্চ, ২০২১ ২৩:১২

রাজশাহীতে বিড়ালের আবাসিক হোটেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে বিড়ালের আবাসিক হোটেল

দীর্ঘদিনের ভ্রমণে যাবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান। কিন্তু তার পালিত তিনটি বিড়াল নিয়ে তো আর ভ্রমণে যাওয়া সম্ভব নয়। পরে জানতে পারলেন রাজশাহীতেই গড়ে তোলা হয়েছে বিড়াল রাখার প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট দিন নিজের বিড়ালগুলো রেখে রাজশাহীর বাইরে ভ্রমণে যান ইশরাত। গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে প্রতিষ্ঠা করা হয় কিটিক্যাট নামক ভিন্নধর্মী প্রতিষ্ঠান।

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের বহরমপুর বাইপাস মোড় থেকে প্রায় ২০০ মিটার সামনে এগোলেই হাতের ডান পাশে রাস্তার সঙ্গে বিড়ালের দেয়ালচিত্র সংবলিত প্রতিষ্ঠানটি দেখা যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সার্ভিস চার্জ প্রদানের মাধ্যমে যে কেউ নিজের বিড়াল রাখতে পারেন ফস্টার হোমে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ কুমার জানান, গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলে ক্যাম্পাসের সব খাবারের দোকানও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ক্যাম্পাসে থাকা শতাধিক কুকুর না খেয়ে থাকে। কয়েক শিক্ষার্থী রান্না করে ওই কুকুর-বিড়ালদের খাওয়াতে শুরু করেন। সেই থেকে কুকুর-বিড়ালদের প্রতি ভালোবাসার জন্ম হয়। প্রসেনজিৎ মার্কেটিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তনুজা আমরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তনুজা সহযোগিতার আশ্বাস দিলে বিড়াল পালনের উদ্যোগ নেন প্রসেনজিৎ। পরবর্তীতে তনুজা আমরিনের স্বামী নাদিম আদনান শামস, ভাই আশিকুর রসুল এবং প্রসেনজিৎ কুমার মিলে কিটিক্যাট প্রতিষ্ঠা করেন। প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, ভেটেরিনারি চিকিৎসক দ্বারা কুকুর-বিড়ালের ভ্যাকসিনেশনসহ নানা ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। কিটিক্যাটের ভেটেরিনারি ডা. নিয়ামত উল্লাহ বলেন, ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন চিকিৎসক থাকবেন। কিটিক্যাটের সভাপতি আশিকুর রসুল বলেন, আমরা মূলত লকডাউনের সময় বিষয়টি ভেবে দেখি। সে সময় বেশ কিছুদিন আমরা রাবি ক্যাম্পাসের কুকুরগুলোকে খাওয়াই। পরবর্তীতে সেটিকেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রূপ দেওয়া হয়েছে। আমাদের ইচ্ছা আছে রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের গলায় বেল্ট পরিয়ে দেব। যাতে রাতে রাস্তা পারাপারের সময় সেই বেল্ট থেকে আলো প্রতিফলিত হয়। আমরা কিটিক্যাটের লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের সেবায় ব্যয় করব।