শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৭ মার্চ, ২০২১ ২৩:৫৬

হামলা ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন

কলকাতা প্রতিনিধি

কোথাও ইভিএম বিভ্রাট, কোথাও ভোট দিতে না পারার ক্ষোভ, কোথাও হামলা-গাড়ি ভাঙচুর, আবার কোথাও প্রার্থীকে ব্যক্তিগত হেনস্তার মধ্য দিয়ে গতকাল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দিনের ভোট গ্রহণ সম্পণ হয়েছে। এ দফায় রাজ্যটির পাঁচ জেলা পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরের ৩০ আসনে ভোট নেওয়া হয়। কভিড স্বাস্থ্যবিধি ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ভোট শুরু হয় সকাল ৭টায়, চলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। সকালেই অশান্তি ঘটে শালবনিতে। সেখানকার সংযুক্ত মোর্চা সমর্থিত সিপিআইএম প্রার্থী সুশান্ত ঘোষের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শালবনির ছোটতারা শিক্ষা কেন্দ্রে সুশান্ত ঢুকলেই উত্তেজনা ছড়ায়। তার গাড়িতে হামলা চালায় কয়েক যুবক। ধাক্কা মারা হয় গাড়িতে। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। এমনকি সুশান্তকে পেছন থেকে ধাক্কা মারা হয়, পরে তার নিরাপত্তাক্ষীরা তাকে গাড়িতে তুলে দেন। সে সংবাদ সংগ্রহরত গণমাধ্যমকর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হয়। বেলা গড়াতেই কাঁথি দক্ষিণের সাবাজপুরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই ও কাঁথি পুরসভার সাবেক প্রশাসক সৌমেন্দু অধিকারীর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর ঘটে। সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সৌমেন্দুর গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। আহত হন গাড়ির চালক।

পুরুলিয়া শহরের ১২৭ নম্বর বুথের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা ঘিরে রণক্ষেত্র চেহারা নেয়। তারই মধ্যে পুরুলিয়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজয় ব্যনার্জি এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করার হুমকি দেন। এর পরই সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা।

পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে আবার অন্য চিত্র ধরা পড়ছে। সেখানে ‘ভোট দিতে গেলেই কেটে ফেলব’ এই বলে হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভোটারদের রীতিমতো ধমকাতে দেখা যায় এক যুবককে। পটাশপুরের চক গোপালপুরে ধান খেতের মধ্যে দাঁড়িয়ে ওই হুমকি দিতে দেখা যায়। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বান্দোয়ান বিধানসভার ২৬৪ নম্বর বুথে বিজেপির পোলিং এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বান্দোয়ান গ্রামের একটি ক্লাবে আড্ডা দেওয়ার সময় কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাঠিচার্জ করেন বলে অভিযোগ। কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্রের মাজনায় ভোটাররা ইভিএম বদলের দাবি তুলে অভিযোগ করেছেন, তারা যে দলের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন সেখানে ভোট না পড়ে তা চলে যাচ্ছে বিজেপিতে। এ অভিযোগে মাজনায় দেপাল রাজ্য সড়কে বিক্ষোভ দেখান এলাকার মানুষ। ফলে ওই কেন্দ্রে বেশ কিছুক্ষণ ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। যদিও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া একাধিক জায়গা থেকে ইভিএম খারাপের খবর পাওয়া গেছে। ফলে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বেশ কিছু জায়গায় ভোটাররা ফিরে যান বলেও জানা গেছে। এদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। তাদের অভিযোগ, প্রথম দফায় অন্তত ১৫ কেন্দ্রে সিআরপিএফ প্রভাব খাটায়। বহিরাগতরা অবাধে বুথে ঢুকেছে। যদিও সবকিছু ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে পূর্ব মেদিনীপুরের এক বিজেপি নেতাকে ফোন করে আসন্ন ভোটে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তরফে সাহায্য চাওয়ার ঘটনা। মমতা ব্যানার্জি এবং ওই বিজেপি নেতার মধ্যে টেলিফোনিক কথাবার্তার অডিও ক্লিপ সামনে আসায় তোলপাড় হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। অডিও ক্লিপে অন্য প্রান্তে থাকা বিজেপির প্রলয় পালকে বলতে শোনা যায় ‘আপনাকে (মমতা) দেখে আমাদের পরিবার রাজনীতি করেছে। আপনার আদর্শ মেনে রাজনীতি করেছি। ২০১১ সালের ভোটর ফল ঘোষণার পর ব্রাহ্মণ ডেকে যজ্ঞ করে মিটিং-মিছিল করেছিলাম। তবু আমি একটা রেসিডেনশিয়াল সার্টিফিকেট পাইনি।’ এরপর নিজের ক্ষোভ-অভিমানের কথা জানান ওই বিজেপি নেতা। তিনি বলেন, ‘দিদি আপনি যা-ই মনে করুন এখন দল থেকে বেরিয়ে এসেছি। যখন যে দলের সঙ্গে রয়েছি সেই দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারব না। যখন যে দল করি প্রাণ দিয়ে সে দলটাই করি। আমাকে ক্ষমা করুন।’ বাংলায় প্রথম দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৪২। পুরুষ ৩৭ লাখ ৫২ হাজার ৯৩৮ আর নারী ৩৬ লাখ ২৭ হাজার ৯৪৯ জন। মোট ১৯১ প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়। নারী প্রার্থী ২১ জন, ১৭০ জন পুরুষ। এ দফায় যেসব নজরকাড়া প্রার্থীর ভাগ্য বাক্সবন্দী হলো তার মধ্যে রয়েছেন মেদিনীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের অভিনেত্রী জুন মালিয়া, বাঘমুন্ডি কেন্দ্রে বর্তমান বিধায়ক সংযুক্তা মোর্চার নেপাল মাহাতো, রানীবাঁধ কেন্দ্রে রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী সিপিআইএমের দেবলীনা হেমব্রম, ঝাড়গ্রামে তৃণমূলের সাঁওতালি অভিনেত্রী বীরবাহা হাঁসদা, রামনগরে তৃণমূলের অনিল গিরি।

আসামে ভোট : পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে গতকাল উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম রাজ্যেও বিধানসভার নির্বাচন শুরু হয়েছে। এদিন প্রথম দফায় ৪৭ আসনে ভোট নেওয়া হয়। এ রাজ্যের মোট ১২৬ আসনে তিন দফায় ভোট নেওয়া হবে। ময়দানে আছেন বিভিন্ন দলের ২৬৪ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ৮১ লাখ ৯ হাজার ৮১৫ জন।

আসামে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আশা প্রথম দফায় ৪৭ আসনের মধ্যে অন্তত ৪৪টিতে জয় পাবে ‘বিজেপি-আসাম গণপরিষদ-ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেল’ জোট। অন্যদিকে রাজ্যের কংগ্রেস সভাপতি রিপুন বরা আশাবাদী কংগ্রেস-এআইইউডিএফ জোট ৩০ আসনে জয় পাবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর