শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০২১ ২৩:২০

রাজধানীতে কিশোর খুন, গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাবারে তুই তো আমারে একটু সান্ত্বনা দিয়ে গেলি না, আমি এখন কারে আদর করুম। আমার বুকটা খালি কইরা চইলা গেলি বাবা। একটাবার ফিরে আয় অনন্ত।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গের সামনে এভাবেই আর্তনাদ করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছিলেন নীলুফা বেগম। আর্তনাদ কেনই বা করবে না, তার নয়নের মণি মো. আরিফ হোসেন ওরফে অনন্ত (১৬) যে আর নেই। সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দে¦ কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে অনন্তকে। গত সোমবার শবেবরাতের রাতে রাজধানীর সূত্রাপুরের লালকুঠি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে সাজু নামে আরেক কিশোর ছুরিকাহত হয়েছে। তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলো- ছুরিকাঘাতকারী ফেরদৌস, সাজ্জাদ ও প্রান্ত। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তিনজন হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। নিহত অনন্তর মা নীলুফা বেগম বলেন, সোমবার বিকালে বাসা থেকে ঘুরতে বের হয় অনন্ত। এরপর সন্ধ্যায় তাকে ফোন দিলে সে বলে বন্ধুর বাসায় আছে, নামাজ পড়ে তারপর বাসায় ফিরবে। রিকশায় করে বাসায় ফেরার জন্য ওকে আমি ডাবল ভাড়া দিয়েছিলাম। রাত ১১টার দিকে কে যেন আমাকে ফোন দিয়ে বলে অনন্ত ঢামেক হাসপাতালে আছে। কারা যেন তাকে মারধর করেছে। তখনো জানতাম না তাকে চাকু মেরেছে। পরে হাসপাতালে এসে দেখি আমার ছেলে আর নেই। তিনি আরও বলেন, অনন্ত বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরাঘুরি করত। এটি আমার পছন্দের ছিল না। এ জন্য ওকে ওর বন্ধুদের কাছ থেকে আড়াল করতে চেয়েছিলাম। গাজীপুরে আমরা জায়গা কিনে বাড়ি করেছি। পুরান ঢাকার বাংলাবাজারে জুবলী স্কুলে অষ্টম শ্রেণি থেকে অটো পাস করার পর তাকে গাজীপুরে একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে ভর্তি করেছি। এ জন্য বর্তমান বাসাও ছেড়ে দিয়েছি। কিছুদিন পরই পরিবারের সবাই গাজীপুর চলে যাব। তার আগেই ওরা আমার সব আশা শেষ করে দিল। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মামুনুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহত অনন্তর বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রধান অভিযুক্তসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। জানা গেছে, অনন্তের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব থানার মান্দারতলীতে। অনন্তর বাবা মো. শাহাদাৎ হোসেন ব্যবসায়ী আর মা নীলুফা বেগম গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ছোট। ওসি আরও বলেন, কয়েক দিন আগে এক কিশোরকে মারধরের ঘটনায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।

শবেবরাতের রাতে লালকুঠিঘাট এলাকায় দুই গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে কাকতালীয়ভাবে দেখা হয়ে যায়। তখন ছুরিকাঘাতকারীদের সিগারেট খেতে দেখে আহত সাজু, নিহত অনন্ত এবং তাদের দলবলসহ ডেকে আনে। এ সময় ফেরদৌস সাজুর পিঠে ও অনন্তর পেটে ছুরিকাঘাত করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।


আপনার মন্তব্য