শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:১৯

লাকসাম ও বাগমারায় ফ্লাইওভার দাবি

নির্মাণ ভোগান্তিতে কুমিল্লা-নোয়াখালী ফোর লেন

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

নির্মাণ ভোগান্তিতে কুমিল্লা-নোয়াখালী ফোর লেন
কুমিল্লা-নোয়াখালী নির্মাণাধীন ফোর লেনের বাগমারায় এভাবেই প্রতিদিন যানজট লেগে থাকে -বাংলাদেশ প্রতিদিন

দীর্ঘদিন ধরে বেহাল কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। বর্ষার বৃষ্টিতে সড়কের গর্তে আটকে যায় যানবাহন। এখন গ্রীষ্মে ধুলায় ধূসর চারপাশ। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরসহ অন্য জেলার যাত্রীরা। প্রায় চার বছর ধরে ফোর লেনের কাজ চললেও এখনো ৪০ ভাগ কাজ বাকি। বাকি রয়েছে কুমিল্লার লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস এলাকা ও লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার এলাকার ফোর লেনের কাজ। এখানে প্রতিনিয়ত যানজটে আটকা পড়ছে মানুষ। এ এলাকায় কবে বাইপাস হবে তারও ঠিক নেই। পরিবহন-সংশ্লিষ্ট লোকজন ও বিশেষজ্ঞদের মতে, জমি অধিগ্রহণ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ বিষয়। তার চেয়ে দ্রুত সময়ে লাকসাম ও লালমাইয়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ করলে অনেক দ্রুত সংকটের নিরসন হয়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পুরো অঞ্চলে যাতায়াত সুবিধা অব্যাহত থাকবে। চার বছর ধরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফোর লেনের কাজ চলছে। ভাঙা সড়কে গাড়ি চালাতে গিয়ে সময় নষ্ট, যানজট আর গাড়ি বিকল হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবহন মালিক এবং শ্রমিকরা। ভোগান্তিতে বিরক্ত যাত্রীরা। বেশি খারাপ অবস্থা বাগমারা দক্ষিণ বাজার, বাগমারা স্কুল সংলগ্ন সৈয়দপুর রাস্তার মাথা, লাকসাম নশরতপুর বাইপাস, হাউজিং বাইপাস এলাকায়। এ ছাড়া বিজয়পুর, ফয়েজগঞ্জ, হরিশ্চর অংশে ভাঙা রয়েছে। এদিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের ফোর লেন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ লাকসামের দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস ও লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার। এখানেই বেশি যানজটের সৃষ্টি হয়। দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে পাঁচ ঘণ্টা। এ কারণে লাকসামের ভিতর দিয়ে বের হতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কের দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে অনেকে রেলপথে চলাচল করছেন। লাকসামের ওপর দিয়ে ওভারপাস বা ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে সংকটের সমাধান হবে দীর্ঘমেয়াদে।  কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার ফোর লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোসহ সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজ গত বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। যে গতিতে কাজ চলছে এতে আগামী বছরও এটি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাইফ উদ্দিন আহমেদ পাপ্পু বলেন, লাকসাম দৌলতগঞ্জ বাজার বাইপাস ও বাগমারা বাজারে প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীসহ পরিবহন মালিক, যাত্রী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এসব স্থানে দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি এখানে ট্রাফিক পুলিশিং ব্যবস্থা জোরালো করা উচিত। উপকূল বাস সার্ভিসের পরিচালক অধ্যাপক কবির আহমেদ বলেন, সড়কটি খারাপ হওয়ায় ও যানজটের কারণে যাত্রীরা ফেনী হয়ে নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর যাচ্ছে। এতে যাত্রী কমে গেছে। খুব প্রয়োজন না হলে কেউ এ সড়কে যাতায়াত করতে চান না। সড়ক ভাঙা হওয়ায় ঘন ঘন গাড়ি বিকল হচ্ছে। সেদিন পানির দামে চারটি বাস বিক্রি করেছি। দ্রুত সড়কটি মেরামত করা না হলে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। কুমিল্লা মোটর অ্যাসোসিয়েশনের (বাস মালিক সমিতি) সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, বাগমারা এলাকায় অর্থমন্ত্রী ও লাকসামে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বাড়ি। তাদের সুদৃষ্টি পড়লে দ্রুত কাজ শেষ হবে। এতে চালক, যাত্রী সবার দুর্ভোগ কমবে। বাইপাস, ওভারপাস বা ফ্লাইওভার যা হোক কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজা-ই-রাব্বি বলেন, বাগমারায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাইপাস করা হবে। আশা করছি, আমরা দ্রুত জমি অধিগ্রহণে যেতে পারব। লাকসামে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার বাইপাস করতে হবে। সেটি ফয়েজগঞ্জ থেকে ভাটিয়াভিটায় গিয়ে মিলিত হবে। এর মধ্যে রেললাইন ক্রস করতে হবে। রেললাইনের ওপর রেলওয়ে ওভারপাস করার পরিকল্পনা রয়েছে। লাকসামের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কিছু সময় লাগতে পারে।