শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৫ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ মে, ২০২১ ২৩:৪৬

কৃষি

হাওরজুড়ে কৃষকের হাসি

আলপনা বেগম, নেত্রকোনা

হাওরজুড়ে কৃষকের হাসি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে এবার ‘আগাম বন্যা’র আগেই সম্পূর্ণ ধান কাটা হয়েছে। কৃষক ফেলছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। এখন হাওরজুড়ে বৈশাখে হেমন্তের আমেজ। চলছে জেলার সমতলের ধান কাটা।

ধানে উদ্বৃত্ত হাওর অধ্যুষিত জেলা নেত্রকোনা। জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী নিয়ে বিশাল হাওরাঞ্চল। যার একটি মাত্র ফসল বোরো ধান। আর এই এক ফসলের ওপরই নির্ভরশীল এ এলাকার জনগোষ্ঠী।

প্রতি বছর এ ফসল আবাদের শুরু ও শেষ পর্যন্ত কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কায় থাকেন। আগাম পাহাড়ি বন্যা, বাঁধ ভেঙে যাওয়া, শিলাবৃষ্টিসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশ অতিক্রম করেই এখানকার কৃষক বেঁচে থাকেন। এ বছর বন্যার আগেই ফসল ঘরে তুলতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছন তারা। শিলাবৃষ্টিসহ গরম হাওয়ায় এ বছর হাওরের কিছু ধান নষ্ট হয়ে গেলেও বন্যা ও কালবৈশাখীর আগেই পুরো হাওরের ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ায় হাওরের ঘরে ঘরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কিষান-কিষানিরা মনে আনন্দ নিয়ে মাঠে মাঠে শুকাচ্ছেন ধান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮৩ হেক্টর জমি। তার মধ্যে হাওর এলাকায় ৪০ হাজার ৯৬০ হেক্টর। চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন। ‘শিলাবৃষ্টি ও গরম হাওয়ায় ১৪ হাজার হেক্টর জমি আক্রান্ত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার ৪০০ হেক্টর।

২৪ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। জেলায় ১০৪টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হাওরের ফসল কাটতে সব মেশিন কাজে লাগিয়েছিলাম। পাশাপাশি ২৪ হাজার শ্রমিকও ধান কেটেছেন। যে কারণে আমরা দুর্যোগের আগে হাওরের ফসল তুলতে সফল হয়েছি। ফলে হাওরজুড়ে এখন ফসলের মাঠে কৃষকের হাসি, বৈশাখে এখন হেমন্তের বাঁশি বাজছে বলে আমি মনে করি।’

এই বিভাগের আরও খবর