শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৯ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ মে, ২০২১ ২৩:৫১

বাজেটে জীবন-জীবিকা রক্ষার দিকনির্দেশনা থাকতে হবে

মনিরুজ্জামান মনি

বাজেটে জীবন-জীবিকা রক্ষার দিকনির্দেশনা থাকতে হবে
Google News

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেছেন, করোনাকালীন দুর্যোগের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের নাভিশ্বাস উঠছে। নিম্নবিত্তরা হাত পাতছেন অন্যের কাছে। আর ব্যবসায়ীরা না পারছেন হাত পাততে, না পাচ্ছেন সরকারের দেওয়া সুবিধা। করোনায় ব্যবসা বন্ধ হওয়ার পথে। এভাবে আর কিছুদিন চললে অনেক দোকানদার তাদের দোকান থেকে কর্মচারীদের ছাঁটাই করে দেবেন বেতন দিতে না পারার কারণে। ফলে আগামী বাজেট হতে হবে ঘুরে দাঁড়ানোর বাজেট, যাতে পথে বসা ব্যবসায়ীরা স্বকর্মে ফিরে দাঁড়াতে পারেন। থাকতে হবে জীবন-জীবিকা রক্ষার দিকনির্দেশনা। মনিরুজ্জামান মনি বলেন, করোনার কারণে জীবন-জীবিকা নিয়ে সব পেশার মানুষ উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। যে মানুষটা আগে দিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার কেনাবেচা করত, তার বিক্রি এখন ঠেকেছে ৫০০-৬০০ টাকায়। এ টাকায় কোনো লাভই হয় না। অনেকের সংসারে তাই টান পড়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবসা মন্দা থাকায় পেটের ভাত জোটানোই এখন দায় হয়ে পড়েছে। অনেকে আবার অন্য কাজের জন্য যে সঞ্চয় করেছিলেন, সেখানে হাত দিয়েছেন। এখন যা হচ্ছে তাতে দোকানের পুঁজি শেষ হওয়ার পথে।

মনিরুজ্জামান মনি বলেন, রাজশাহী অঞ্চলে যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত তারা বেশ হতাশার মধ্যে বসবাস করছেন। এদের বেশির ভাগ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিনির্ভর। দেখা গেছে এদের বেশির ভাগ এ করোনা মহামারীতে চাকরি হারিয়েছেন। আবার যারা টিকে আছেন তাদের বেতনও হয়ে গেছে অর্ধেক। যারা ব্যবসা করেন, তাদের সংখ্যাও এখন কমেছে। উদ্যোক্তা না থাকায় বেসরকারি খাতে চাকরির সুবিধা কমেছে। এখন বিনিয়োগ ও চাকরির কোনো সুবিধাই নেই।

রাজশাহীতে বড় শিল্প নেই। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী উদ্যোক্তারা পথে বসেছেন। তাই এবারের বাজেটে চেম্বারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে বেশ কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুলাই থেকে ভ্যাট অনলাইন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উন্নয়নের জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট শূন্য করার প্রস্তাব, সব ব্যবসায়ীর জন্য ভ্যাট ৭% নির্ধারণ, রাজশাহীর শিল্প বিকাশের জন্য ৫০% ভ্যাট ও আয়কর কমানো, ঠিকাদাররা সরকারি দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পর চুক্তিপত্রে যে ভ্যাট-ট্যাক্সের উল্লেখ থাকে, পরবর্তী বছরে ভ্যাট ও আয়কর বৃদ্ধি পেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি করা ভ্যাট ও আয়কর আরোপ না করা, যেসব ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান সুপার ট্যাক্সের আওতায় পড়ছে তাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে প্রণোদনা প্রদান, বেসরকারি উদ্যোগে শিল্পপার্ক করার জন্য ভূমি ক্রয়ের লক্ষ্যে ৫% সুদে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্য উন্নয়নে ৫০০ একরের একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে কৃষিভিত্তিক বহুমুখী খাদ্য প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ৫% সুদে এক হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ, রিয়েল এস্টেট ব্যবসাকে শিল্প হিসেবে পরিগণিত করাসহ ৪৫ দফা প্রস্তাব করেছি, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’

এই বিভাগের আরও খবর