শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১০ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ মে, ২০২১ ২৩:১৪

কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে

-ড. আহসান এইচ মনসুর

কৃষিতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে
Google News

আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে কৃষিতে ভর্তুকি ও চলমান অন্যান্য উদ্যোগ অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, গবেষণা বাড়াতে হবে। জোর দিতে হবে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর। উন্নত করতে হবে পানি ব্যবস্থাপনা। চালের উৎপাদন সঠিক মাত্রায় ধরে রাখতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এবার হাওরাঞ্চলে ধান কাটা সফলভাবে হয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় কৃষি অর্থনীতি মোটামুটি ভালো। তাই গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্রও বর্তমানে খারাপ না। তবে লকডাউন ও নানা কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে হবে। যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। গত বছরের বাজেটে এ খাতে সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি। সে জন্য এবারের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আগামী বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্য খাতে। এই মহামারী করোনার মধ্যেও গত বছর স্বাস্থ্য খাতের কোনো উন্নতি হয়নি। করোনা হয়তো আরও দুই-তিন বছর থাকতে পারে। সুতরাং সামনের দিনগুলোতে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। সরকারের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এ খাতকে। আগামী বাজেটে এডিপিতে নতুন নতুন শ্রমবান্ধব প্রকল্প নিতে হবে। কেননা করোনায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছে। তাদের জন্যও আগামীর বাজেটে ব্যবস্থা রাখতে হবে। ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট উচ্চাভিলাষী নয়, বাস্তবভিত্তিক হতে হবে। এবার করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শতভাগ গুরুত্ব দিতে হবে। টিকা, লকডাউন, হাসপাতাল এবং ক্ষুধার্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করতে পৃথক বরাদ্দ থাকতে হবে। সরকারের আয়-ব্যয়ে বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে নিতে হবে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পদক্ষেপ। এ ছাড়া অর্থ চলাচলের প্রধান চ্যানেল আর্থিক খাত সংস্কারে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা জরুরি। পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমাদের এখানে সব সময় অবাস্তব বাজেট করা হয়। সরকারকে বলব গত বছর থেকে শিক্ষা নিন। বাস্তববাদী হোন। বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশ দেখানো হয়। এ বছর এটি অন্তত ৭-৮ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে ৩২ শতাংশ। বাজেট অবশ্যই বাস্তবসম্মত হতে হবে। বাড়াতে হবে সামাজিক নিরাপত্তার আওতা ও বরাদ্দ। অপ্রয়োজনীয় বা কম প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাদ দিতে হবে।’ তাঁর মতে, আগামী বাজেটে রাজস্ব আয় বেশি বাড়বে না। সেই সঙ্গে করোনার প্রভাবও থাকবে। সুতরাং আগামী বছর আয় কম হবে। কিন্তু ব্যয় বাড়বে বিভিন্ন কারণে। এ জন্য আগামী বাজেটকে সেভাবেই সাজাতে হবে।

এই বিভাগের আরও খবর