শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ মে, ২০২১ ২৩:৩৬

শিম চাষে লাগবে না মাচা

খায়রুল ইসলাম, গাজীপুর

শিম চাষে লাগবে না মাচা
Google News

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রফেসর ড এ কে এম আমিনুল ইসলাম বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ নামে শিমের দুটি খাট জাত উদ্ভাবন করেছেন। সম্প্রতি নতুন উদ্ভাবিত বিইউ খাট শিম ৮ ও বিইউ খাট শিম ৯ জাত দুটি খাট হওয়ায় কোনো প্রকার সাপোর্ট খুঁটি এবং মাচা বিহীনভাবে মাঠে ফসলের                 মতো চাষ করা যাবে। দেশে এ শিম চাষে গতিশীলতা আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া জাত দুটি ছাদ বাগানে টবে চাষ করার উপযোগী। শিম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে প্রায় সব গাছই লম্বা।

প্রফেসর ড. এ. কে. এম. আমিনুল ইসলাম জানান, বিইউ খাট শিম ৮, একটি বিদেশি খাট জাতের সঙ্গে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোক সংবেদনশীল ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৩৫ থেকে ৪৫ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরাগুলো বেগুনি রঙের, নলডগ টাইপের, মাংসল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ১৮ থেকে ২০ গ্রাম। দৈর্ঘ্য ১৪ থেকে ১৬.০ সেমি, প্রস্থ ১.৫ থেকে ২.০ সেমি, শিমে ৬ থেকে ৮টি বীজ হয় ও গাছপ্রতি ৭৫ থেকে ৮০টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০ থেকে ১৩০ দিন। গাছপ্রতি ফলন ১২০০ থেকে ১৫০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা দেশে চাষ উপযোগী। তিনি আরও জানান, বিইউ খাট শিম ৯-একটি বিদেশি খাট জাতের সঙ্গে দেশীয় জাতের সংকরায়ন পরবর্তী পিউর লাইন নির্বাচনের মাধ্যমে এ জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এটি একটি আলোক সংবেদনশীল ও আগাম জাত। আগাম জাত হিসেবে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে এর বীজ বপন শুরু করা যায়। গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ সেমি, শুটির রং সবুজ, শিরাগুলো বেগুনি রংয়ের, শুটি মাংসল এবং শাঁস নরম হওয়ায় খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি শিমের ওজন ৯ থেকে ১০ গ্রাম, দৈর্ঘ্য ৮ থেকে ৯ সেমি, প্রস্থ ১.৫ থেকে ২.০ সেমি, শিমে ৫ থেকে ৬ টি বীজ হয়, গাছ প্রতি ৭৫ থেকে ১০০টি শিম ধরে। জীবনকাল ১২০ থেকে ১৩০ দিন। গাছপ্রতি ফলন ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। এই জাতটি সারা বাংলাদেশে চাষ উপযোগী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. গিয়াসউদ্দীন মিয়া জানান, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভাবিত শিমের এই জাতগুলো খাট হওয়ায় মাচা বা খুঁটি ছাড়াই মাঠ ফসলের মতো চাষ করা যাবে। এতে উৎপাদন খরচ কম হবে। কৃষকরা জাতগুলো চাষ করে অধিক লাভবান হবেন। শিমের জাতগুলো খাট হওয়ায় টবেও চাষ উপযোগী ফলে নগর বা ছাদ কৃষিতেও অসামান্য অবদান রাখতে সক্ষম হবে।